উদ্দীপকে নির্দেশিত মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ বাংলাদেশের সামাজিক আইনের ক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে। নিচে তা মূল্যায়ণ করা হলো- নারীর স্বার্থ সংরক্ষণ এবং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এ আইনে। নারী সমাজের অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় এ আইন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। বিয়েতে মেয়েদের মতামত বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি করে। বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দেওয়ার ফলে একদিকে বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত হওয়ায় পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না, অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ আইনের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করায় অবহেলিত নারী সমাজের পৃথক মর্যাদা লাভের সুযোগ হয়েছে। পারিবারিক ভাঙন রোধে এ আইন বিশেষ তাৎপর্যবহ। তালাক কার্যকর করার পূর্বে স্থানীয় সংস্থা বা সালিসি পরিষদের মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গৃহীত হয়। আবার এ আইনের আওতায় নারীরা তা তাদের অন্যতম অধিকার মোহরানার টাকা আদায় করারও আইনগত কি, অধিকার পায়। বিবাহের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি কমে যায়। স্বামীকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে বাধ্য করা হয়। সম্পত্তিতে এতিম শিশুদের অধিকারকে সুনিশ্চিত করা হয়।তাই বলা যায়, পারিবারিক আইনের জগতে মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।