নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক কুপ্রথা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এদেশে বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে বেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান ছিল। এ অবস্থা মোকাবিলায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নারীর মর্যাদা রক্ষা, অধিকার আদায় এবং পরিবারের সুখ-শান্তি ও শিশুদের উত্তরাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। যা পরবর্তীতে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন নামে পরিচিতি পায়।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের মাধ্যমেই নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পায়। বাংলাদেশে মুসলিম নারীদের স্বার্থরক্ষায় এ আইন নিরাপত্তাকবচ হিসেবে কাজ করে। কেননা এই আইন নারী ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ এনে দিয়েছে। এই আইন প্রণয়নের আগে কোনো স্বামী মুখে তালাক উচ্চারণ করলেই তালাক হয়ে যেত। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে দেনমোহর ও ভরণপোষণের খরচ থেকে বঞ্চিত হতো। কিন্তু এ আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রির বিধান রাখার ফলে নারীর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা লাভের সুযোগ এসেছে। এমনকি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এটি নারীদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তাছাড়া ছেলেমেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণসহ পিতৃহীন এতিম ছেলেমেয়ের স্বার্থরক্ষার জন্যও এই আইন কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।
উল্লিখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় নারীদের কল্যাণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন সেফগার্ড হিসেবে পরিচিত।