উদ্দীপকে মুসলিম পারিবারিক সামাজিক আইনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : মুসলিম সমাজে একসময় বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে নারীদের অধিকার প্রাপ্তির থেকে অসামঞ্জস্য ছিলো। এজন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বর্তমান বাংলাদেশ নারীর মর্যাদার রক্ষা, অধিকার আদায়, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং শিশুদের উত্তরাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে এটি মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ নামে পরিচিত হয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এ আইন অনুসারে প্রতিটি বিবাহ রেজিস্ট্রি হতে হবে এবং বিবাহ রেজিস্টির জন্য ইউনিয়ন কাউন্সিলর এক বা একাধিক ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেবে। এই ধারাটি মুসলিম বিবাহের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বামী ও স্ত্রীর মনোনিত প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত সালিশ পরিষদের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে। এ আইনের তালাক ও বিবাহবিচ্ছেদ সম্পর্কিত ধারাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা অনুসারে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য স্বামীকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। এবং এ আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তার সন্তান মারা গেলে এবং মৃত ছেলে এবং মেয়ের সন্তান থাকলে তারা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির অংশ পাবে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারাগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে।