উদ্দীপকে উল্লিখিত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা এর কার্যকারিতাকে সীমিত করে।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা এর কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রথমত, দেশের অনেক মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও পশ্চাৎপদ অঞ্চলের জনগণ এ আইন সম্পর্কে অজ্ঞ। তারা দেনমোহর, ভরণপোষণসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন না থাকায় প্রায়ই এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দ্বিতীয়ত, এ আইন বহুবিবাহের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করলেও তা পুরাপুরি নিষিদ্ধ. করেনি। ফলে একজন পুরুষ সহজেই সালিশি পরিষদের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে, যা নারীর অধিকার রক্ষায় একটি 'বড় সীমাবদ্ধতা। তৃতীয়ত, তালাক প্রদান প্রক্রিয়ায় পুরুষ ও নারীর মধ্যে বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। পুরুষের জন্য তালাক দেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও নারীদের তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ পেতে জটিল ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়। চতুর্থত, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবও একটি বড় সমস্যা। বিবাহ নিবন্ধন না হওয়া, দেনমোহর ও ভরণপোষণ প্রদানে অনীহা, এবং তালাকের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটে। এসব কারণে আইনটি বাস্তব প্রয়োগে অনেক সময় ব্যর্থ হয় এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারে না।