রাহেলা ও শাকিল ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিবাহের বয়স, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, দেনমোহর ও তালাকের বিধান লঙ্ঘন করেছেন।
মুসলিম সমাজে একসময় বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে নারীদের অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য ছিল। এজন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার (বর্তমান বাংলাদেশ) নারীর মর্যাদা রক্ষা, অধিকার আদায়, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং শিশুদের উত্তরাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে এটি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ নামে পরিচিত হয়। ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে এ আইন কার্যকর হয়।
উদ্দীপকে রাহেলা মাত্র পনের বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কোনো প্রকার রেজিস্ট্রেশন, দেনমোহর ছাড়াই বিয়ে হয় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের বিচ্ছেদ হয়। উদ্দীপকে রাহেলা ও শাকিলের বিয়ে ও তালাকে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের লঙ্ঘন ঘটেছে। কেননা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ ও ছেলেদের ২১ করা হয়েছে। একইভাবে এই আইনে প্রতিটি বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ও দেনমোহর প্রদান বাধ্যতামূলক করা করা হয়েছে। আর তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে তালাক ঘোষণার পর সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে তালাকের নোটিশ প্রদান এবং এর এক কপি স্ত্রীকে প্রদান করে সালিশি পরিষদের মাধ্যমে ৯০ দিন পরে তালাক কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে বিবাহের বয়স, রেজিস্ট্রেশন, দেনমোহর ও তালাকের কোনো বিধান মানা হয়নি। তাই বলা যায়, রাহেলা ও শাকিল ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের লঙ্ঘন করেছেন।