সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে ধর্মের ভূমিকা নিম্নে মূল্যায়ন করা হলো:ধর্মের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আর্ত-মানবতার সেবা এবং মূল্যবোধের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। সমাজ জীবনে যে সকল সমস্যা সৃষ্টি হয় তা প্রতিরোধে ধর্মের নিয়ন্ত্রণ মূলক ভূমিকা রয়েছে। ধর্ম মানবজীবনের সব দিক নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এবং মৃত্যু থেকে পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ধর্মে বিধান আছে। যার ফলে ধর্ম মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্ম মানুষের মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যমে সমস্যা মুক্ত জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তোলে। মিথ্যা কথা বলা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা, চুরি করা, মানুষের মনে কষ্ট দেওয়া ইত্যাদি মূল্যবোধ পরিপন্থী কাজ ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত। যার জন্য মানুষ তুলনামূলক কম এসব কাজে উদ্বুদ্ধ হয়। তাছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিয়মিত যাতায়াতের ফলে মানুষের মধ্যে সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকেই মানুষের মধ্যে দুস্থ, অসহায়দের সহায়তা এগিয়ে আসার মানসিকতা তৈরি হয়। উদ্দীপকে ও রাজস্ব কর্মকর্তা মমিনুল হক খুব সহজেই এক কোটি টাকা আয় করতে পারতেন। কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই কাজটি অনাচার বিধায় তিনি এই কাজটি করতে উদ্বুদ্ধ হয়নি। এভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসের মাধ্যমে সমাজে বিভিন্ন অনাচার কমে যায়। তাই বলা যায়, সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে ধর্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।