উদ্দীপকে উল্লিখিত গণমাধ্যমের ক্ষেত্রগুলো নানারকম তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমত গঠন করে।
সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ, গঠনমূলক কোনো কাজ পরিচালনা বা ইতিবাচক যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে জনমত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণমাধ্যম বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় জনমত গঠনে সহায়তা করে। উদ্দীপকের উদাহরণে গণমাধ্যমের চারটি ক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে রেডিও, টিভি, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের কথা বলা হয়েছে। এগুলো বর্তমানে শীর্ষস্থানীয়, গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম।
টেলিভিশন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে টেলিভিশন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। নানারকম অপরাধমূলক কার্যকলাপের সচিত্র প্রতিবেদন, অনুসন্ধানমূলক তথ্য উপস্থাপনে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। এসব সংবাদ প্রচারের কারণে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যা সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইটিভি (ETV)-এর 'একুশের চোখ', ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের 'তালাশ', যমুনা টেলিভিশনের '৩৬০" প্রভৃতি অনুষ্ঠানের কথা বলা যায়। এসব অনুষ্ঠানে সমাজের নানা রকম অসঙ্গতি বা সমস্যা তুলে ধরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বেতার গণমাধ্যম হিসেবে নানা ধরনের তথ্যমূলক সংবাদ, যাত্রা, নাটক, আলোচনা, বক্তৃতা প্রচার করে যা শ্রোতাদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
এছাড়া সামাজিক, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়। বিশেষ করে সমাজ সচেতনতামূলক যেসব চলচ্চিত্র তৈরি হয় সেগুলো সাধারণ জনগণকে মহৎ চিন্তা ও কাজে উৎসাহী করে এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সঙ্গীতের মাধ্যমেও সমাজের নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়; যা সমাজের জনগণকে সচেতন করে তোলে। এভাবে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গণমাধ্যমগুলো জনমত গঠনে সহায়তা করে।