উদ্দীপকের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, 'ক' ও 'খ' এর পরিবার পারিবারিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এই পরিবারে যৌতুক, নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা ও শিশুদের মানসিক বিপর্যয়ের মতো গুরুতর সামাজিক সমস্যা বিরাজমান। এই ধরনের সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মী ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আইনি বিভিন্ন উপায়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন।সমাজকর্মী 'ক' ও 'খ' এর পরিবারের সদস্যদের সচেতন করতে পারেন এবং পরিবারে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কাউন্সেলিং সেবা দিতে পারেন। 'ক' বোঝাতে পারেন, যৌতুক এবং স্ত্রী নির্যাতন একটি অপরাধ এবং এটি পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে। 'খ' কে তার অধিকার ও আইনি সুরক্ষার ব্যাপারে জানাতে পারেন। সমাজকর্মী পারিবারিক সম্পর্কের উন্নয়নে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, যা পরিবারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও সহযোগিতার। সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য পরামর্শ দিতে পারেন। সন্তানদের মানসিক বিকাশের জন্য পিতা-মাতার দায়িত্ব সম্পর্কে 'ক' ও 'খ' কে অবহিত করতে পারেন। এই পরিবারে সহিংসতার কারণে সন্তানরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। সমাজকর্মী শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম নিতে পারেন। শিশুদের মানসিক কাউন্সেলিং প্রদান, তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং প্রয়োজনবোধে স্থানীয় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে পারেন। যৌতুকের দাবি এবং গার্হস্থ্য নির্যাতন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী ভুক্তভোগীকে 'খ' আইনি সহায়তা গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারেন। 'খ' কে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের বিষয়ে জানাতে পারেন। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নারী সহায়তা সংস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন।অতএব উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা, পারিবারিক মূল্যবোধ স্থাপন, শিশুদের মানসিক বিকাশের মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী হস্তক্ষেপ কর েপারেন।