ধর্ম বলতে অতিপ্রাকৃত মহাশক্তিতে বিশ্বাসকে বোঝায়। এ বিশ্বাস সমাজ ও মানুষের জীবনধারাকে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্মীয় আদর্শ ও বিশ্বাসবোধ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি, আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায় আচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজব্যবস্থাকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষের মাঝে ন্যায়-অন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে মানুষকে ন্যায়নিষ্ঠ করে তোলে। সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, আইন, আদালত প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাব দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিচার কাজ পরিচালনায় শপথ গ্রহণের ওপরও ধর্মের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় যেকোনো অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনায় ধর্মের বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়। যাতে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও অনাচার থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মুক্ত রাখা যায়।ধর্মীয় বিশ্বাস, মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ বিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচার-আচরণকে নির্দিষ্ট আদর্শ ও নীতিবোধের প্রতি বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। ইহকালের কাজের ফলাফল পরলোকে ভোগ করতে হয়, মৃত্যুর পর মানুষকে কৃতকর্ম অনুসারে স্বর্গে অথবা নরকে যেতে হয় এ ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে খারাপ কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধের প্রভাবে মানুষ সহজে অন্যায় কাজে অংশগ্রহণ করে না। তাই সামাজিক অন্যায়, অনাচার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভূমিকা ও প্রভাব বিতর্কাতীত। সামাজিক উত্তেজনা হ্রাসে ধর্মীয় অনুশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় বিধিবিধান, আদর্শ ও মূল্যবোধ, যৌতুক প্রথা, এইডস, পতিতাবৃত্তি, যৌন নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা, দুর্নীতি ইত্যাদি নেতিবাচক কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।মোটকথা, ধর্মবিশ্বাস মানুষকে ইতিবাচক জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে। তাই বলা যায়, সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য।