সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ধর্মের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।সমাজ ও মানুষের জীবনধারাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের সামগ্রিক জীবন-দর্শন ধর্ম বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ধর্মীয় আদর্শ ও বিশ্বাসবোধ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি, আদর্শ প্রতিষ্ঠা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি সামাজিক সংহতি ও ঐক্য এবং মানবতাবোধের অনুভূতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। ধর্মে বিশ্বাস মানুষের মাঝে ন্যায়-অন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে মানুষকে ন্যায়নিষ্ঠ করে তোলে। আবার ধর্মবিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচার-আচরণকে নির্দিষ্ট আদর্শ-নীতিবোধের প্রতি বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। ইহকালের কাজের ফলাফল পরলোকে ভোগ করতে হয়। মৃত্যুর পর মানুষকে কৃতকর্ম অনুসারে স্বর্গে অথবা নরকে যেতে হয়। এ ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে খারাপ কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধের প্রভাবে মানুষ সহজে অন্যায় কাজে অংশগ্রহণ করে না। এর প্রভাবে সামাজিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি স্বাভাবিকভাবে কর্ম হয়। ধর্মীয় বিধিবিধান, আদর্শ ও মূল্যবোধ, যৌতুক প্রথা, এইচআইভি/এইডস, পতিতাবৃত্তি, যৌন নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা, দুর্নীতি ইত্যাদি নেতিবাচক কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।সর্বোপরি তাই বলা যায়, ধর্মে বিশ্বাস সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধের হাতিয়ার।