উদ্দীপকে উল্লিখিত সর্বশেষ উক্তি “সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি ধর্মীয় মূল্যবোধ”- উক্তিটি যথার্থ।
ধর্ম বলতে অতিপ্রাকৃত মহাশক্তিতে বিশ্বাসকে বোঝায়। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজ ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ করে। ইহকালের কাজের ফলাফল পরলোকে ভোগ করতে হয়, এ ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে খারাপ কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। তাই সামাজিক অন্যায়, অনাচার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভূমিকা ও প্রভাব যেকোনো ধরনের বিরোধ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
ধর্ম মানুষের নীতিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার উৎস, যা মানুষের আত্ম-উন্নয়ন ঘটায়; যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসী হয়ে সকল প্রকার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা পবিত্র জীবনের আশায় নিজেদের ভালো কাজ করার প্রেরণা লাভ করে। যা সামাজিক সমস্যা দ্বন্দ্ব, সংঘাত, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, অপরাধ প্রভৃতি প্রতিরোধে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধান, সমাজের সর্বাধিক কল্যাণ ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যা উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্য তথা। 'সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি ধর্মীয় মূল্যবোধ' এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণতা এবং যথার্থতা প্রমাণ করে।