উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ভূমিকা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
দরিদ্রতাকে অভিশাপ বিবেচনায় নিয়ে ব্র্যাক মানবজীবনের দৈহিক, 'অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা প্রভৃতি দিকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক পরিবর্তন ঘটে। পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ, রেশম, সামাজিক বনায়ন, মৎস্য চাষ, পশুপালন ও হাঁস-মুরগির খামার ও গ্রামীণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। ফলে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পথ মসৃণ হয়। এসব কর্মকাণ্ডে পুঁজি সমস্যার সমাধানে, ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্রদের ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। আর্থসামাজিক উন্নয়নে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞান করার লক্ষ্যে ব্র্যাকের উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা, বয়স্ক শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, ব্যবহারিক শিক্ষা (বয়স্ক শিক্ষা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ), মেধা বিকাশ প্রকল্প ও কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কর্মসূচি প্রভৃতি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। ব্র্যাক শুরু থেকেই স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব আরোপ করেছে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে খাবার স্যালাইন সম্প্রসারণ কর্মসূচি দিয়ে সূচনা করে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রম, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র, সুবিধাভিত্তিক সেবা (সুস্বাস্থ্য) প্রভৃতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্র্যাক ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়াও সমন্বিত পল্লি উন্নয়ন কার্যক্রম, মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি, জেন্ডার নিরপেক্ষতা ও বহুমুখিতা, হাওর উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদি কার্যক্রম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।