হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি তথা গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও এখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যা প্রচুর। আর্থসামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর পরিবর্তন আনয়নে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রণীত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাই মূলত গ্রামীণ ব্যাংক নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। নোবেলজয়ী এ প্রতিষ্ঠানটি এখন বিশ্বের কাছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের একটি মডেল । গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অগ্রসর করতে এ প্রতিষ্ঠানটি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চার ধরনের ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে থাকে- মৌলিক ঋণ, গৃহনির্মাণ ঋণ, উচ্চশিক্ষা ঋণ ও ভিক্ষুক ঋণ মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এদেশের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের অবসান করার উদ্দেশ্যও গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক তাদের পরিচালিত কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতে সফল হয়েছে। ঋণ পরিশোধের উচ্চহার, ঋণের যথাযথ প্রয়োগ এবং বিশেষত গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের প্রসার এ ব্যাংকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নকল্পে গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় ঋণ সুবিধা পৌছে দিচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই গ্রামীণ ব্যাংকের দারিদ্র্য বিমোচনের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে গ্রহণ করা হয়েছে।
তাই বলা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানটি দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ও ফলপ্রসূ অবদান রাখছে।