গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সফলতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।১৯৭৪ সালে মাত্র ১১টি থানায় পল্লি সমাজসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ৪৮৫টি উপজেলায় সম্প্রসারিত হয়। গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করা এবং সর্বোপরি আর্থসামাজিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জীবনমান উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রমগুলো বাস্তবধর্মী। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রথমেই কর্মদল গঠন করা হয়। সেখানে মহিলাদের অগ্রাধিকার প্রদান করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নিম্ন আয়ের জনগণ বিশেষ করে বেকার ও অর্ধবেকারদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণ সংস্থানসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে সবল হয়ে উঠে। পুঁজি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ঘূর্ণায়মান তহবিলের মাধ্যমে সুদমুক্ত ঋণদান ব্যবস্থা করা হয়। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোগ গ্রহণের পথ মসৃণ হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি, পুষ্টিজ্ঞান প্রদান, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবহার নিশ্চিতকরন, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দান করে। মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করতে পল্লি মাতৃকেন্দ্র প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাতৃত্বকালীন বিভিন্ন সুবিধাদানের মাধ্যমে শিমুর বিকাশকে গুরুত্বারোপ করা হয়। গ্রামীণ জনগণের অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চালু করে বয়স্ক ও ছেলেমেয়েদের সাক্ষর জ্ঞান প্রদান করে থাকে। এছাড়াও অন্যান্য সম্পূরক কার্যক্রমগুলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে নিশ্চিত করে।পরিশেষে বলা যায়, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সফলতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।