উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত গ্রামীণ সমাজসেবা এবং শহর সমাজসেবা কার্যক্রমের পরিবেশ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্ভব।গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শহরমুখিতা রোধে গ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করা এবং সর্বোপরি আর্থসামাজিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জীবনমান উন্নয়ন করাই গ্রামীণ সমাজসেবার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে গ্রামীণ সমাজসেবা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র, অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, নিম্ন আয়ের গ্রামীণ জনগণ বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণসংস্থানসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে উপার্জনক্ষম করে তোলার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করে। এছাড়া গ্রামীণ জনগণকে আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা, সকলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চিত্তবিনোদনের সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক শিক্ষা, দলীয় আলোচনা, সভা-সমিতি, মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে গ্রামীণ অবকাঠামোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজসেবা শহরমুখীরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, সুস্থ ও সামাজিক জীবনের জন্য দরকার সুস্থ পরিবেশ। শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অন্যতম ঝুঁকি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তাই বস্তি এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও পানীয় জলের বিষয়ে সচেতন সৃষ্টি করে সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার প্রচেষ্টায় কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে শহর সমাজসেবা।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত গ্রামীণ সমাজসেবা এবং শহর সমাজসেবা কার্যক্রমের পরিবেশ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির যৌথ বাস্তবায়ন অপরিহার্য।