বাংলাদেশে মৌলিক চাহিদা হিসেবে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা পূরণে ব্যর্থতার কারণে চিত্তবিনোদন অবহেলিত মৌল মানবিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সুস্থ, সবল, কর্মক্ষম এবং অর্থবহ জীবনযাপনের জন্য চিত্তবিনোদনের অবস্থাকে কোনোক্রমেই খাটো করে দেখা উচিত নয়। কারণ চিত্তবিনোদন ক্লান্তি, হতাশা, দুশ্চিন্তা ও অশান্তি দূর করে দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, যাত্রানুষ্ঠান; জারিগান, সারিগান, পুঁথি, 'কবিগান ইত্যাদি চিত্তবিনোদন আজ আর নেই। সেই সাথে চরম দারিদ্র্যের সাথে সর্বদা লড়াই করা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জীবিকার তাড়নায় সদা ব্যস্ত থাকে বলে তাদের চিত্তবিনোদনের মতো বাড়তি বিলাসিতার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে বিনোদন হিসেবে টিভি, ভিসিআর, রেডিও, সিনেমা ইত্যাদি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১৯৯৩ সালে আকাশ সংস্কৃতি উন্মুক্ত করায় বাংলাদেশের জনগণ এখন দেশ- বিদেশের নানা ধরনের অনুষ্ঠান ও সিনেমা ঘরে বসে উপভোগ করতে পারছে।
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে নানারকম পার্ক যেমন— শিশুপার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ফয়'স লেক, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক ইত্যাদি উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিনোদনের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষ এ ধরনের সুযোগ গ্রহণ করতে সমর্থ নয়। বাংলাদেশে বিনোদন, এখন পর্যন্ত ব্যাপক গুরুত্ব পায়নি। বিনোদনের যেসব সুযোগ রয়েছে তা কেবল অর্থশালীদের হাতেই জিম্মি নিম্নবিত্ত বিশেষ করে গ্রামীণ জনগণ এ চাহিদা পূরণ হতে একেবারেই বঞ্চিত।