উদ্দীপকের বর্ণিত সমস্যাটি সমাধানে সমাজকর্মীর বহুবিধ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
প্রথমত, মৌল মানবিক চাহিদার পূর্বশর্ত হচ্ছে সামাজিক জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাস্তব ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা সামাজিক জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদার পূরণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশলের আলোকে লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে সম্পদ চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারে। তৃতীয়ত, স্থানীয় ভিত্তিতে প্রাপ্ত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে মৌলিক চাহিদা পূরণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সমাজকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারে। চতুর্থত, গ্রামীণ ও শহর সমাজসেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম ও শহর অঞ্চলে দরিদ্র, অসহায় ছিন্নমূল মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। পঞ্চমত, বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা বিধানে ব্যাপক ভিত্তিতে অবদান রাখতে পারে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সাহায্য, সামাজিক বিমা, শস্য বিমা, বয়স্ক ভাতা, বেকার ভাতা কর্মসুচি থাকা উচিত। এ কর্মসূচিতে সমাজকর্মীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ষষ্ঠত, জনগণের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে বাস্তবমুখী সামাজিক নীতি ও আইন প্রণয়ন করা। গঠনমূলক দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ভূমিকা পালন করতে পারেন।
অতএব বলা যায়, উপরিউক্তি ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে সমাজকর্মীরা অবদান রাখতে পারে ।