গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে উক্ত কর্মসূচি অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির ভূমিকা অপরিসীম।
নিজস্ব সম্পদ এবং সরকারের সহায়তার মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সাল থেকে গ্রামীণ সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন, কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। উদ্দীপকে ১৯৭৪ সালে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি।
মূলত এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের নিম্ন আয়ভুক্ত দরিদ্র যুবক-যুবতী বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেলাই, ব্লক-বাটিক, সামাজিক বনায়ন ইত্যাদিতে ১৭,৭১,৯৩৪ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত এ মহিলারা আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনেক বেকার মহিলাদের কাজের ব্যবস্থাও করছেন; যার ফলে একদিকে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে দারিদ্র্যের হার। আবার গ্রামের দরিদ্র, ভূমিহীন, বেকার ও দুস্থ মহিলাদের পুঁজি সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার লক্ষ্যে পল্লি এলাকায় সুদমুক্ত ঋণদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব ঋণগ্রহীতাদের ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়। তবে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কেবলমাত্র আত্মকর্মসংস্থান এবং ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে না। পরিবারের আকার ছোট রাখতে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের অবস্থার উন্নয়নের জন্যও এ কর্মসূচি কাজ করে।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, গ্রামে বসবাসরত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের স্রোতধারায় সংযুক্ত করা এবং দারিদ্র্যের মাত্রা কমিয়ে আনতে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।