হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের আসাদের মতো ব্যক্তিদের সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা রোধের উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয়েছে।
যৌতুকের মতো অমানবিক প্রথা রোধ করতে 'যৌতুক নিরোধ আইন- ১৯৮০ প্রণীত হয়। এ আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনের অভিভাবকের কাছে যৌতুক দাবি করলে সে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড যা এক বছরের কম হবে না অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়াও যৌতুক প্রদান বা গ্রহণে সহায়তাকারীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যৌতুক প্রদানে বাধ্য করা, যৌতুকের জন্য শারীরিক বা মানসিক বা উভয় ধরনের নির্যাতনে উৎসাহিত করা হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে আশা করা যায়, * সামাজিকভাবে যে কেউ যৌতুক গ্রহণ বা প্রদানে বিরত থাকবে।
এছাড়া যৌতুক বিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ব্যাপারে আইনটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যৌতুকের নেতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক কুপ্রথা হিসেবে একে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এই আইনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ যৌতুক প্রদানকে ঘৃণ্য কাজ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এমনকি যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আইনটি সহায়ক হবে।
সুতরাং বলা যায়, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ ঘটাতে সাহস পাবে না ।