উদ্দীপকের মর্জিনার সমস্যা সমাধানে মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ আইনের ভূমিকা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো : সামাজিক কুপ্রথা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান থাকায় নারীদের মর্যাদা রক্ষা, অধিকার আদায় ও শিশুদের উত্তরাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই মুসলিম পারিবারিক আইন কার্যকর হয়। পূর্বে কেউ মুখে তিন তালাক উচ্চারণ করেই তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারতো। এছাড়াও লিখিত কোন প্রমাণ না থাকায় দেনমোহর ও ভরণপোষণের খরচ থেকে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীরা বঞ্চিত হতো। যার ফলে নারীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হতো। কিন্তু এই আইনে স্বামীদের দ্বিতীয় বিয়ে করা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও এই আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রির বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণসহ পিতৃহীন এতিম ছেলেমেয়েদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই আইন কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। উদ্দীপকের মর্জিনার সমস্যাও এ আইনের আলোকে সমাধান সম্ভব। কেননা যেহেতু তার স্বামী সুমন তাকে শুধুমাত্র মুখে তিন তালাক উচ্চারণ করে তালাক দিয়েছে তাই এটি আইনত তালাক হয়নি। উপরন্তু পরবর্তীতে সমস্যা সমাধান না হলেও তাকে দেনমোহর ও ভরণপোষণ এর খরচ দিতে সুমন বাধ্য থাকবে। যার ফলে মর্জিনার কিছুটা হলেও সমস্যা সমাধান হবে। তাই বলা যায়, মর্জিনার সমস্যা সমাধানে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।