স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতনের সুবিচার পেতে রিমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০০৩ এর সাহায্য নিতে পারে।
নারী নির্যাতন রোধ এবং অপরাধীকে কঠোর শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত আলাদা আলাদা অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে প্রণীত মূল আইনের সংশোধনী এনে ১৩ জুলাই ২০০৩ সালে পাস করা হয় 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী) আইন-২০০৩'। এই আইনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১২টি অনুচ্ছেদ ও উপ-অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনা হয়েছে এবং অপরাধের বিচার ও তদন্ত সম্পর্কিত ছয়টি নতুন ধারা সংযোজিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রিমির স্বামী মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত । প্রায়ই নেশাগ্রস্ত হয়ে সে রিমিকে নির্যাতন করে। স্বামীর এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে সে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী) আইন- ২০০৩' এর সাহায্য নিতে পারে। এ আইনে নারী নির্যাতন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রত্যয়ের ( যেমন- অপরাধ, অপহরণ, আটক, ধর্ষণ, নবজাতক শিশু, যৌতুক প্রভৃতি) সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেইসাথে এর প্রধান ধারাগুলোর মধ্যে আছে- ১. শিশুর বয়স নির্ধারণ- সংশোধিত আইনে শিশুর বয়সসীমা ১৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৬ বছর করা হয়েছে; ২.দহনকারী পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তি- যদি কোনো ব্যক্তি দহনকারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে কোনো শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটান বা ঘটানোর চেষ্টা করেন তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড হবে। এছাড়া নির্যাতনের কারণে নারী বা শিশুর অঙ্গহানি ঘটলে বা শারীরিক, মানসিক বা অন্য কোনো ক্ষতি হলে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে; ৩. মুক্তিপণ আদায় করার শাস্তি- মুক্তিপণ আদায় করার উদ্দেশ্যে যদি কোনো শিশু বা নারীকে আটক করা হয় তাহলে আটককারীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এমনকি অতিরিক্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে; ৪. নারী ও শিশু অপহরণ- পতিতাবৃত্তি বা নীতিবহির্ভূত কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে কোনো নারী ও শিশু পাচার করা হলে নিয়োজিত ব্যক্তির শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্যূন ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ড হবে; ৫. সম্ভ্রমহানিজনিত কারণে আত্মহত্যা- আইন অনুযায়ী সম্ভ্রমহানির পর কোনো নারী আত্মহত্যা করলে বা কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর অথবা নূন্যতম পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হবে। তবে এ আইনের আরো কিছু ধারা রয়েছে যেগুলো রিমির মতো নির্যাতনের শিকার নারীদের সুবিচার পেতে সাহায্য করবে।