উক্ত আইনটি নারী ও শিশুকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কি? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সমাজের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উক্তিটি আমি সমর্থন করি।মুসলিম পারিবারিক আইন নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক মুসলিম পারিবারিক আইনেই প্রথম এটা সুনিশ্চিত করা হয় যে, কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকলে তার পুত্র যা কন্যা আবার সন্তানাদি থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের সময় সম্পত্তির ভাগ পাবে; যা তিনি জীবিত থাকলে পেতেন। অর্থাৎ দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় কারও পিতা মারা গেলে দাদার সম্পত্তি হতে নাতি-নাতনিদের বঞ্চিত করা যাবে না। উক্ত আইনের মাধ্যমে এতিম শিশুদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা স্বীকার করে তাদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইনের পূর্বে দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় বাবা মারা গেলে দাদা সম্পত্তির ভাগ থেকে নাতি-নাতনিদের বঞ্চিত করা হতো। এটি এতিম শিশুদের বা সন্তানদের অধিকার নিশ্চিতের এক অনন্য সংযোজন। এ আইনে অবহেলিত নারী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাপক নিরাপত্তা লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এ আইন প্রবর্তনের অনেক বিবাহ, তালাক শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে শেষ হয়ে যেত এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়ে দেনমোহর ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরূপ ক্ষেত্রে এ আইন বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নারী সমাজের নিরাপত্তা লাভের ব্যবস্থা করেছে। আবার এ আইনে স্বামীর ইচ্ছামতো স্ত্রী ত্যাগ করার ও গ্রহণ করার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বহুবিবাহকে রোধ করার চেষ্টা করছে। এই আইনের মাধ্যমে খোরপোশ ও দেনমোহর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সমস্ত কিছুই নারী অধিকারের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উক্ত আইনটি সমাজসেবার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
HSC Social Work 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Social Work 2nd Paper · সৃজনশীল
উক্ত আইনটি নারী ও শিশুকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কি? বিশ্লে…
উদ্দীপক
ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর