উদ্দীপকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।গ্রামীণ সমাজসেবা হচ্ছে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির ওপর ভিত্তিশীল একটি গ্রাম উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। যার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা হয়। 'মূলত গ্রামীণ এলাকার দুস্থ, দরিদ্র, অবহেলিত, অনগ্রসর ও সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, যেমন- ভূমিহীন কৃষক, বেকার যুবক, দুস্থ মহিলা ও শিশু-কিশোর, এতিম, ভবঘুরেসহ অন্যান্য পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হলো গ্রামীণ সমাজসেবা। এটি এমন একটি বহুমুখী উন্নয়ন-প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্যের সদ্ব্যবহার করে তাদের চাহিদা পূরণ, সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক কল্যাণ সাধনের প্রচেষ্টা চালানো হয়। অন্যভাবে বলা যায়, গ্রামীণ সমাজসেবা হচ্ছে গ্রাম এলাকার জনগণের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় সম্পদের. ভিত্তিতে পরিচালিত একটি সমন্বিত ও বহুমুখী গ্রামোন্নয়ন প্রক্রিয়া, যা গ্রামীণ জীবনকে সুখী ও অর্থবহ করে তোলে।১৯৭৪ সালে কর্মসূচি তার কার্যক্রম শুরু করে; যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে রয়েছে। এ কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ জনগণের মধ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ঋণ, মাতৃকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পুষ্টিমান প্রদান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণ প্রভৃতি প্রকল্প চালু করা হয়।গ্রামীণ সমাজসেবা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের জনগণের দারিদ্র্য দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।