উদ্দীপকের সামিন হাসানের মাঠকর্মে 'ব্যক্তিমর্যাদার স্বীকৃতি' নীতিমালাটির প্রতিফলন দেখা যায়। কিন্তু সঠিকভাবে মাঠকর্ম সম্পাদনের জন্য সামিন হাসানের আরও কিছু নীতি অনুসরণ করতে হবে। একজন সমাজকর্মীর সমাজসেবায় সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। সমাজকর্মের জন্য মোটামুটিভাবে ৮টি স্বীকৃত নীতিমালা রয়েছে। আবার ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্যোশাল ওয়ার্কার্স কর্তৃক প্রণীত ৫টি নৈতিক নীতিমালা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে— সেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ব্যক্তির মর্যাদা ও মূল্য, মানবীয় সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব প্রদান, সততা ও যোগ্যতা, সমাজকর্মের সফলতা ও দক্ষতা এসব নৈতিক নীতিমালার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিসত্ত্বার স্বীকৃতি না দিলে সমাজকর্ম ফলপ্রসূ হয় না। সেবা নিশ্চিত করতে সমাজকর্মীকে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্ত্বার মূল্যের স্বীকৃতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। জনসেবা ও সুবিধাদির নিরপেক্ষ ও সুষম বণ্টন জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিতাদের অধিকার সংরক্ষণ করা সঠিক সমাজকর্মের দাবি। সমাজকর্মে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সমষ্টির স্বার্থকে অধিক প্রাধান্য দিতে হবে। সততা ও নিষ্ঠা সমাজকর্মের অন্যতম পূর্বশর্ত। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য সততা, নিরপেক্ষতা ও সচেতনতার গুণগত মান অত্যাবশ্যক। একজন সফল সমাজকর্মীকে অবশ্যই পেশাগত ঝুঁকি হ্রাস, অনুমিত বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, গোপনীয়তা বজায় রাখা ইত্যাদি সঠিকভাবে মাঠকর্ম সম্পাদনের নৈতিক নীতিমালা। কিন্তু উদ্দীপকে সামিন হাসানের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিমর্যাদার স্বীকৃতি বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুতরাং সঠিকভাবে মাঠকর্ম সম্পাদনের জন্য সামিন হাসানকে আরও বেশকিছু নীতি অনুসরণ করতে হবে।