সমাজকর্মের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে করিমের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে মাঠকর্মের তাৎপর্য অপরিসীম।
সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবমুখী করে তুলতে মাঠকর্ম প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে সমাজকর্মের নীতি, আদর্শ ও পদ্ধতিকে বিমূর্ত রূপ দেওয়া সম্ভব হয় না। কেননা, স্থান, কাল, পাত্র ভেদে সমাজকর্মের নীতি ও পদ্ধতির পরিবর্তন হয়। তাই তাত্ত্বিক জ্ঞানকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তার কার্যকারিতা, উপযোগিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বস্তুনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর ফলে একজন শিক্ষানবীশ সমাজকর্মী ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং দক্ষতা অর্জনে সমর্থ হন ৷
মাঠকর্ম শিক্ষায় সমাজকর্মের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় করা হয়। কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন তা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ছাড়া তার কার্যকারিতা ও উপযোগিতা পাওয়া যায় না। সেজন্যই সমাজকর্মে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটানো হয় যা একজন পেশাদার সমাজকর্মীর জন্য জরুরি। সমাজকর্মীরা শিক্ষানবিশ অবস্থায় অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান কোনো প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। এভাবে নবীন সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের নীতি চর্চার একটি বাস্তব পরিবেশ পায়। এর ফলে পরবর্তীতে তারা পেশাগত জীবনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো রকম অসুবিধার সম্মুখীন হয় না। এছাড়া সমাজকর্মী হিসেবে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের সবল ও দুর্বল দিকসমূহ উপলব্ধি করার শিক্ষা মাঠকর্মের. মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফলে আত্মসমালোচনা ও নিজের কাজের বিশ্লেষণসহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার সুযোগ মেলে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজের এবং সমাজকর্ম পেশার নীতি ও পদ্ধতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন হয়। ফলস্বরূপ অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তরে অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হয় এবং সে আত্মসচেতন হয়ে ওঠে।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, শিক্ষানবীশ সমাজকর্মী হিসেবে মাঠকর্ম চলার সময় করিম বেশ কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। যা তার ভবিষ্যত পেশাজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।