উদ্দীপকে রাকিব খানের কর্মকান্ডে সমাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাঠকর্মের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সমাজকর্ম শিক্ষায় এ মাঠকর্মের গুরুত্ব অত্যধিক।
সমাজকর্ম শিক্ষায় সমাজকর্মের নীতি, পদ্ধতি ও কৌশলগুলো বিমূর্ত নয়। স্থান-কাল-পাত্রভেদে এ নীতি, পদ্ধতি ও কৌশলের পরিবর্তন হয়ে থাকে। মাঠকর্মে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় করা হয়। এ তত্ত্বকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্যই মূলত ব্যবহারিক শিক্ষা। সমাজকর্ম আজ সারাবিশ্বে পেশাগত বিজ্ঞান হিসেবে পরিচিত। এর যেমন তাত্ত্বিক জ্ঞানভান্ডার রয়েছে তেমনি রয়েছে বাস্তবসম্মত ব্যবহারিক দিক। তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করে এর উপযোগিতা প্রমাণ করার জন্যই সমাজকর্মে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমস্যা সমাধান করে একটি সুখী সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। যা সম্ভব হয় শুধু যুগোপযোগী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার মাধ্যমে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে শিল্প বিপ্লবোত্তর শিল্পায়ন ও শহরায়নের কারণে মানবসভ্যতার উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছে; হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কিন্তু এর অনিবার্য ফলাফল হিসেবে দেখা দিয়েছে নানাবিধ সামাজিক সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক প্রগতিকে সঠিক দিকে প্রবাহিত করার জন্য সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়। যার ফলশ্রুতিতেই যে জ্ঞান অর্জন করি তা অনেক সময় প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় প্রয়োগ করা যায় না।
এজন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা যথার্থ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়ে থাকে। কারণ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সময় অনেক নতুন নতুন চিন্তাচেতনা, পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করতে হয়। সমাজকর্ম যেহেতু সাহায্যকারী একটি প্রক্রিয়া সেহেতু এখানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।