সারা বিশ্বের সকল শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টি, বিকাশ ও উন্নয়নে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিসেফ নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পুরানো প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দান, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নানা ধরনের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে থাকে। ইউনিসেফের কার্যক্রমের মধ্যে আরও যে কার্যক্রমগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে- প্রাক শিক্ষণ কার্যক্রম, প্রাথমিক শিক্ষা, কর্মরত শিশুদের জন্য শিক্ষা, নারী শিক্ষা কার্যক্রম ও মিনা ইনিশিয়েটিভ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুহার রোধ ও তাদের অবস্থার উন্নতি এবং সংক্রামক ব্যাধির নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টিতে ইউনিসেফের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, টিকাদান কর্মসূচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংস্থাটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। শিশুর সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা শাখা শিশুদের জন্মনিবন্ধনীকরণে স্থানীয় সরকার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে কাজ করে। শিশুর বিকাশ ও উন্নয়নে তাদের পুষ্টির উন্নয়ন করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে ইউনিসেফ Early Childhood Development Project (ECDP) প্রকল্প পরিচালনা করে। যেখানে জরিপ পরিচালনাসহ পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ; পুষ্টি সচেতনতা তৈরি; বিস্কুট ও দুগ্ধ বিতরণ; পুষ্টি প্রশিক্ষণ প্রদান; পুষ্টি পরিকল্পনায় সহায়তা প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যকর প্রসব ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, বিশ্বব্যাপী শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্যপুষ্টি, বিকাশ ও উন্নয়নে ইউনিসেফের ভূমিকা অপরিসীম।