উদ্দীপকের বর্ণিত বিপন্ন মানুষের কল্যাণে গঠিত সংগঠনটি হলো ইউএনডিপি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর ভূমিকা অপরিসীম।
১৯৭২ সালের ৩১ জুলাই থেকে UNDP বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদেশের দারিদ্র্য হ্রাস, শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ জাতিসংঘের SDG-২০৩০ অর্জনে UNDP এবং তার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, শাসনব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে নির্বাচন কমিশনের উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন- দুর্নীতি দমন কমিশন, সংসদ ও বিচারবিভাগের সংস্কার সাধনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর মধ্যে আছে- পুলিশ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা; উপজেলা শাসন পরিচালনা প্রকল্প; বিচারব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ প্রকল্প; ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন প্রকল্প প্রভৃতি। দারিদ্র্য সমস্যা সমাধানে সরকার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে চারটি বিষয়কে সামনে রেখে ইউএনডিপি কাজ করছে। এগুলো হলো- স্থানীয় মালিকানা, দক্ষতার উন্নয়ন, আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া পরিবেশ ও জ্বালানি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি জ্বালানি ও পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে ইউএনডিপি মন্ট্রিল প্রোটোকলের আওতায় বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে। এর বাইরে ইউএনডিপি বাংলাদেশে উদ্ভূত বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে এক্ষেত্রে দুটি প্রকল্প চলছে, একটি CDMP-2 (Comprehensive Disaster Management Programme) অন্যটি Humanitarian Response Team। এছাড়া ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার আদিবাসী ও বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সংস্থাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন ও আস্থা অর্জন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধনের প্রচেষ্টায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউএনডিপি এবং তার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যে কারণে দেশের বিপন্ন মানুষের কল্যাণে সংস্থাটির ভূমিকা অপরিসীম।