উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি হলো জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ। বাংলাদেশে এ সংস্থাটি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময় থেকে ইউনিসেফ বাংলাদেশে কাজ করে আসছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিশুদের, স্বাস্থ্যরক্ষা ও পুষ্টি কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের শিশুদের কল্যাণে খাদ্য, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি, টিকা ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে থাকে।
ইউনিসেফ শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। তারা প্রাথমিক শিক্ষাকে সহজলভ্য করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং দুর্যোগপূর্ণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে টিকাদান, পুষ্টি ও জন্মকালীন সেবায় সহায়তা দিয়ে আসছে, যার ফলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। তাঁরা বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। শিশু সুরক্ষায় ইউনিসেফ বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, পাচার ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করে থাকে। কিশোর-কিশোরীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল করে তুলতে সংস্থাটি কাজ করছে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।