চিকিৎসা সমাজকর্মের কর্মী হিসেবে নাবিলার কতিপয় সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-প্রথমত, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে সহযোগিতা করা চিকিৎসা সমাজকর্মীর প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। কারণ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রোগীরা হাসপাতাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। আবার তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিতও না। দ্বিতীয়ত, রোগীকে হাসপাতালে কম অভিজ্ঞতার কারণে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।হাসপাতালের নতুন পরিবেশ, নতুন মুখ, অসহায়ত্ব, সন্দেহ, সংকোচ, চিকিৎসা, ওষুধপত্র ইত্যাদি সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ, রোগীকে হাসপাতাল থাকা-খাওয়ানোর ক্ষেত্রে হাসপাতাল সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৃতীয়ত, অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় এবং মূল্যবান ওষুধপত্র, রক্ত, পথ্য, চশমা, অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো তা সদ্ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। চতুর্থত, চিকিৎসায় সহযোগিতা তথা ওয়ার্ড রাউন্ডিং, চিকিৎসা গ্রহণে উপদেশ প্রদান, অস্ত্রোপচারের ভয়ভীতি ও শঙ্কা দূর এবং এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ভূমিকা' রাখেন। পঞ্চমত, রোগীর চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তির পর তার রোগ নির্ণয় করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সমাজকর্মী রোগীর সাথে গঠনমূলক পেশাগত সম্পর্ক বা র্যাপোর্ট স্থাপন করেন এবং এর মাধ্যমে রোগীর রোগ সম্পর্কিত এবং অন্যান্য আর্থ-মনোসামাজিক দিকসমূহ অনুধ্যানের মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। যষ্ঠত, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা সমাজকর্মী রোগ ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখেন। সর্বোপরি, রোগ-পরবর্তী সেবা প্রদান 'অর্থাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, বিশ্রাম নেওয়া এবং ফলোআপ করে থাকেন।