উদ্দীপকের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প সমাজকর্মীর ভূমিকাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সমাজকর্মী শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি নিরপেক্ষভাবে উভয় পক্ষের কথা শুনেছেন এবং তাদের মধ্যে বোঝাপড়া স্থাপনে সহায়তা করেছেন। তিনি একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, যেমন- মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন মালিকপক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের সমস্যাগুলোও তিনি শ্রমিকদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, যাতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা যায়। এর পাশাপাশি, তিনি একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবি আদায়ের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন এবং কোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য বুঝিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি মালিকপক্ষকেও শ্রমিকদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার এবং তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।
একজন সমাজকর্মী হিসেবে তিনি সেতুবন্ধনকারীর ভূমিকা পালন করেছেন। যখন শ্রমিকদের অসন্তোষ দেখা দেয়, তখন তাদের এবং মালিকপক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সমাজকর্মী এই দূরত্ব কমাতে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করেছেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছেন। সর্বোপরি, তিনি একজন সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে পরিস্থিতিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি মজুরি ও বকেয়া বেতনের মতো সমস্যাগুলোর মূল কারণ অনুসন্ধান করেছেন এবং উভয় পক্ষের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করেছেন। এই সমাধানটি বাস্তবায়নে তিনি উভয় পক্ষকে উৎসাহিত করেছেন, যার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মী মধ্যস্থতাকারী, পরামর্শদাতা, সমাধানকারীর ভূমিকা পালান করেন। সেতুবন্ধনকারী এবং সমাধানকারীর ভূমিকা পালান করেন।