"বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয় সমাকর্ম শাখার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।"
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাখাটি হলো বিদ্যালয় সমাজকর্ম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয় সমাজকর্মীরা শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ছিল ৩২.৮৫ শতাংশ, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৪.৮৭ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ১ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, যার মধ্যে ৫৫% মেয়ে শিক্ষার্থী। স্কুল সমাজকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে পারেন, যার ফলে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এছাড়া তারা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অবদান রাখেন। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ৫৯.৭% উদ্বেগে (anxiety) এবং ৬৯.৫% বিষণ্ণতায় (depression) ভোগে। স্কুল সমাজকর্মীরা কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলা এবং সুস্থ জীবনধারণে সহায়তা করেন।
বিদ্যালয় সমাজকর্মীরা অপরাধপ্রবণতা হ্রাস এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শহর ও গ্রামীণ উভয় অঞ্চলে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। তারা শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কর্মকা েযুক্ত করে এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে অপরাধের প্রবণতা কমাতে সহায়তা করেন। এছাড়া তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত সমস্যা যেমন-পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়া, মনোনিবেশের অভাব বা শেখার অক্ষমতা সমাধানে সহায়তা করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হয় এবং শিক্ষকদের জন্যও একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয়ও স্কুল সমাজকর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তারা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে সামাজিক বাধা দূর করতে সাহায্য করেন, যাতে প্রতিটি শিশু স্কুলে আসার এবং মানসম্মত শিক্ষা -পাওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে শিক্ষা ও সামাজিক সমস্যাগুলো পরস্পর জড়িত, বিদ্যালয় সমাজকর্ম একটি বিশেষায়িত শাখা হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সুস্থ, উন্নত সমাজ গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।