উদ্দীপকের চান মিয়ার সমস্যা সমাধানে চিকিৎসা সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন ।
চিকিৎসা সমাজকর্ম শাখার সেবা গ্রহীতারা হলেন সমস্যাগ্রস্ত ও দরিদ্র রোগী। দারিদ্র্যের কারণে তারা অনেকেই নিজেদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে পারে না। এক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসা সমাজকর্ম বিভাগ রোগীকে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারে। এ বিভাগ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত রোগীরা বেশিরভাগই নিরক্ষর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এজন্য তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সমাজকর্মীরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে সহায়তা করেন। তাছাড়া চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর কাছে হাসপাতালের পরিবেশ এবং নিয়ম-কানুন অপরিচিত থাকে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সমাজকর্মীরা রোগীদের হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করেন।
আবার অনেক রোগী গ্রাম থেকে শহরে চিকিৎসার জন্য আসেন। এসব ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা গ্রহণে চিকিৎসা সমাজকর্মীরা সাহায্য করেন। এছাড়াও রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন— রক্তগ্রহণ, রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, অস্ত্রোপচার, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি করাতে অনেক রোগী ভয় পায় । এ সময় রোগীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য চিকিৎসা সমাজকর্মের গুরুত্ব রয়েছে। চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে অনেক রোগীর পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রেও একজন চিকিৎসা সমাজকর্মী গুরুত্বারোপ করেন। অনেক রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে চিকিৎসা পরবর্তী সময়েও বিশেষ নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় ।
উদ্দীপকে চানমিয়া সময়মতো অস্ত্রোপচার করতে না পেরে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সমাজকর্মী চানমিয়ার মানসিক অবস্থা দৃঢ় রাখতে ও চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারেন। চিকিৎসা সমাজকর্মী চানমিয়ার আর্থ-সামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারেন। যদি সেটি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে প্রথমে চানমিয়ার মানসিক অবস্থা সুদৃঢ় করতে তাকে সাহস জোগাবেন। তার চিকিৎসার ব্যাপারে তাকে আশ্বাস দিবেন এবং হাসপাতালের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে চানমিয়ার অস্ত্রোপাচারের ব্যবস্থা করতে পারেন ।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, চানমিয়ার শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা রোধ ও সঠিক চিকিৎসা প্রাপ্তিতে চিকিৎসা সমাজকর্মী ভূমিকা রাখতে পারেন ।