উদ্দীপকে সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা চিকিৎসা সমাজকর্মের কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসা সমাজকর্মের কার্যক্রম সর্বস্তরের মানুষের রোগ প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়ন এবং সুস্থ সবল জাতি গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসহ বিশ্বের সকল দেশের সকল মানুষের জন্য চিকিৎসা সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। রোগীর বিভিন্ন দৈহিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, আবেগীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভৃতি সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক কল্যাণ সাধন করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসন কিংবা সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
অসুস্থ হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তাকে চিকিৎসা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। কিন্তু অধিকাংশ লোক চিকিৎসা বিষয়ে অজ্ঞ ও অসচেতন। তারা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধিতে অক্ষম । এমতাবস্থায় হাসপাতাল সমাজকর্মের মাধ্যমে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। হাসপাতালে ভর্তির পর নতুন পরিবেশে রোগী ঠিকমতো খাপখাওয়াতে পারে না। হাসপাতাল। সমাজকর্মী রোগীকে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য ব্যক্তিদের সাথে রোগীর সামঞ্জস্য বিধানে সহায়তা করেন । রোগ ও রোগীর কার্যকর ও ফলপ্রসূ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন অনুধ্যান, রোগ নির্ণয় ও সমাধান। হাসপাতাল সমাজসেবা এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীদের শুধু দৈহিক চিকিৎসা নয়, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চিকিৎসারও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে হাসপাতাল সমাজসেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেক্ষেত্রে রোগীদের মানসিক তৃপ্তি, একাকিত্ব দূরীকরণ ও বিনোদনের ব্যবস্থাকরণে চিকিৎসা সমাজকর্মের ভূমিকা রয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণকালে ও চিকিৎসার পর বহু উপকরণ যেমন ওষুধ, পথ্য, রক্ত, চশমা, কাচ, হুইল চেয়ার ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের পক্ষে অনেক সময় এসব গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় হাসপাতালে সমাজসেবার অন্তর্গত রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে তাদের সহায়তা করা হয়। রোগীর রোগ-পরবর্তী সেবা যেমন— গৃহ পরিদর্শন, অনুসরণ, মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সমাজকর্মের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, চিকিৎসা সমাজকর্মের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।