“প্রবীণ কল্যাণের জন্য উক্ত ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় করা প্রয়োজন” – মন্তবটি যথার্থ।
বার্ধক্যে ব্যক্তি যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন সে ব্যাপারে অনেক সময় পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকে না। এতে করে প্রবীণদের প্রতি আমাদের করণীয় কী হতে পারে সে সম্পর্কেও সবার সঠিক ধারণা নেই । এজন্য সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা জরুরি। প্রবীণদের কল্যাণের জন্য উক্ত ব্যবস্থা তথা বৃদ্ধ নিবাস ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন সমাজকর্মী প্রবীণকল্যাণে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। এছাড়াও সামাজিক সচেতনতা, সকলকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পারিবারিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন। প্রবীণদের কল্যাণে বৃদ্ধাশ্রম বা বৃদ্ধ নিবাসকে জনপ্রিয় করতে বৃদ্ধ নিবাসের পরিবেশ উন্নয়ন। সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। বৃদ্ধ নিবাসে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার উন্নতি করা। এছাড়াও নামাজ পড়ার ঘর, লাইব্রেরি, প্রবীণদের জন্য উপযোগী বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, টিভি, জার্নালের ব্যবস্থাকরণ। উক্ত ব্যবস্থাগুলো ব্যক্তি ভেদে বা আলাদা আলাদা পছন্দ অভিরুচির জন্য স্বাতন্ত্র ব্যবস্থা রাখা। বৃদ্ধ নির্বাস কর্মসূচি সম্পর্কে সকলকে অবহিতকরণ, প্রচার মাধ্যমের সহায়তা নেওয়া । বৃদ্ধ নিবাসে সকলের সমান সুযোগ ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা, বৃদ্ধ নিবাসের চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য, সুপেয় পানি প্রভৃতি আধুনিকায়ন করা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। উক্ত ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করা। এছাড়াও স্থানীয় ক্ষমতাবানদের, নেতা ও বিত্তশালী মানুষদের সাথে বৃদ্ধাশ্রমের অর্থায়ণের সমন্বয় সাধন করা। উপরের কার্যক্রমগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় করা সম্ভব।
উক্ত ব্যবস্থা তথা বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় হলে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। বঞ্চিত, সমস্যাগ্রস্থ মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন সৃষ্টি হবে এবং মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তাই বলা যায়, প্রবীণদের কল্যাণে উক্ত ব্যবস্থা তথা বৃদ্ধনিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় করা প্রয়োজন ।