বাংলাদেশের বাস্তবতায় উক্ত শাখার অর্থাৎ বিদ্যালয় সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা অত্যাধিক, যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থা থেকে উন্নয়নশীল শিল্পপ্রধানের দিকে মোড় নিচ্ছে। ফলে সমাজে দুই শ্রেণির জনগোষ্ঠী বিরাজ করছে। উন্নত বা উন্নয়নশীল সমাজব্যবস্থার মতো অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আবেগিক জায়গাতে সমাজকর্মীর ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। আবার অনুন্নত অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও মানসিক জায়গাতে ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। সর্বোপরি উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যালয় সমাজকর্মীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব হচ্ছে। পারিবারিক ভাঙন কিংবা শিল্পকারখানা কেন্দ্রীক অভিভাবকদের ব্যস্ততার ফলে শিক্ষার্থীদের আবেগিক ও মানসিক ক্ষেত্রে যে প্রভাব পড়ছে, তারই প্রকাশ ঘটে বিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থী স্কুলে অমনোযোগিতা, অন্যের সাথে খাপ-খাওয়াতে সমস্যা, নিঃসঙ্গতা প্রভৃতি সমস্যার সমাধানে বিদ্যালয় সমাজকর্মীর গুরুত্ব স্পষ্টভাবেই ফুটে ওঠে। আবার অনুন্নত বা কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোতে অসতর্কতা, দৈন্যতা, অভিভাবকদের সাথে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া, মানসিক হীনম্মন্যতা প্রভৃতি কারণে শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঝরে পড়ছে বা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রেও বিদ্যালয় সমাজকর্মীর শিক্ষার্থী, পরিবার ও সমাজ, শিক্ষক সকলের সাথে যে ভূমিকা রাখতে পারে, তার গুরুত্বস্বাভাবিকভাবেই অনুভব করা যায়। অতএব বলতে হয়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।