খাদ্যের চাহিদা পূরণ তথা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ও' দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা, যা একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন।প্রথমত, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। উন্নত বীজ ও চাষ পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে হবে। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলবায়ু উপযোগী কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। উন্নত গুদাম ও হিমাগার স্থাপনের মাধ্যমে খাদ্য নষ্ট হওয়া রোধ করতে হবে। তৃতীয়ত, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের মাধ্যমে খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। চতুর্থত, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির পরিসর বৃদ্ধি এবং আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে। পঞ্চমত, পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও খরা, বন্যা ও লবণাক্ত প্রতিরোধী ফসলের চাষ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রচলন করতে হবে।এই কর্মসূচিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে, অপুষ্টি কমবে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।