বাংলাদেশে বিরাজমান শিক্ষা চাহিদার অপূর্ণতার কারণ বহুমুখী ও ব্যাপক।শিক্ষার চাহিদার অপূর্ণতা বা অপর্যাপ্ততার প্রধান কারণ হচ্ছে অধিক জনসংখ্যা। বাংলাদেশে জনসংখ্যা আধিক্যের দেশ। জনসংখ্যা অনুপাতে চাহিদা পূরণের পর্যাপ্ত সম্পদ বা অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অসীম চাহিদার পূর্ণতায় সসীম সম্পদ কখনই পর্যাপ্ত হয় না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশ। অধিকাংশ জনগণ দারিদ্র্যের কারণে মৌল মানবিক চাহিদাগুলো যথার্থ পূরণে ব্যর্থ হয়। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় প্রতিবছরই দুর্যোগের ফলে দেশের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়। যা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়। চতুর্থত, একটি দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে তার মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণের পথ প্রশস্ত হয়। বতর্মান সময়ে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন শিল্পায়নের ওপর নির্ভরশীল। যে দেশ যত শিল্পোন্নত সে দেশ ততো সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ শিল্প ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও যে কারণগুলো রয়েছে-বৈষম্য ও সম্পদের অসম বণ্টন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা প্রভৃতি। অতএব দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে প্রকাশিত বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণ বহুমুখী ও ব্যাপক।