উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌলিক মানবিক চাহিদা অপূরণজনিত কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো বেশ গুরুতর।
মানুষের জীবনের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ হওয়া এতই আবশ্যক যে, যেমন করে হোক তা পূরণ করতেই হয়। স্বাভাবিক বা বৈধ পথে না হলে প্রয়োজনে অবৈধ উপায়েও চাহিদাগুলো পূরণ করতে মানুষ বাধ্য হয়। ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে মানুষ খুন পর্যন্ত করে। আবার ঘর না পেলে মানুষ রাস্তাতেই ঘুমায়। সেজন্য রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা। কেননা, এই চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার ফলে সমাজে দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা।
মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার ফলস্বরূপ জসিমের পরিবারকে শারীরিক ও মানসিক দুর্দশার শিকার হতে হয়। অপর্যাপ্ত খাদ্যের কারণে তারা অপুষ্টিতে ভুগতে পারে, যা তাদের শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং নানা ধরনের রোগের কারণ হয়। এ স্বাস্থ্যহীনতা তাদের কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করে, ফলে তারা আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে পড়ে। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর কারণে গৃহহীনতা তাদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশার জন্ম দেয়। ফুটপাতে বা বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও নিম্নমুখী করে তোলে এবং সম্মান ও মর্যাদাহানির কারণ হয়। দারিদ্র্যের কারণে জসিমের লেখাপড়া করতে না পারা তাকে নিরক্ষর ও অজ্ঞ করে তুলেছে। শিক্ষার অভাবে সে কোনো ভালো কাজ পায় না, যা তাকে বেকারত্বের বোঝায় ফেলে দেয়। এ বেকারত্ব পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যখন মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হয় না, তখন হতাশা থেকে অপরাধের জন্ম নেয়। জসিমের মতো কিশোররা যখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে ভোগে, তখন তারা জীবনধারণের জন্য চুরি, ছিনতাই বা অন্যান্য অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে পারে। এটি সমাজে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে।
সুতরাং বলা যায়, একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে তা কেবল সেই পরিবারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো সমাজের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।