উদ্দীপকে নির্দেশিত মৌল মানবিক চাহিদা তথা বস্ত্রের চাহিদা পূরণের পথে নানাবিধ অন্তরায় বিদ্যমান।বাংলাদেশের মানুষের বস্ত্রের চাহিদা পূরণ নির্ভর করে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর। বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায়, দেশের মানুষের বস্ত্রের চাহিদা সর্বাংশে পূরণ করা যায় না। প্রথমত, অধিক জনসংখ্যার কারণে সকলের বস্ত্রের মৌলিমানবিক চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতিতে বার বার বাধা সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের ওপরে এর প্রভাব পড়ে। তৃতীয়ত, বেকারত্বের কারণে দেশের অনেক মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট উপার্জন করতে ব্যর্থ হয়। যা তাদের বস্ত্র বা পোশাকের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে। চতুর্থত, সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে সমাজের একটি শ্রেণি বিত্তশালী অন্য শ্রেণি দরিদ্র। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদশালীরা আরও সম্পদশালী হয়। ফলে দরিদ্ররা অর্থ বা সম্পদের অভাবে তাদের চাহিদাগুলো যথার্থভাবে পূরণ করতে পারে না। ষষ্ঠত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কম সম্পদশালী নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনপ্রণালীকে ব্যাহত করে। ফলে জীবনের সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। বস্ত্র চাহিদা পূরণেও এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়।সর্বোপরি বলা যায়, উপর্যুক্ত অন্তরায়গুলো উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল-মানবিক চাহিদা তথা বস্ত্রের চাহিদা পূরণকে বাধাগ্রস্ত করে।