উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানের এলাকার মতো দরিদ্র মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে সরকারি যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে তা খুবই ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসস্থানের সংকট বাড়ছে। বিশেষ করে শহর এলাকায় এ সমস্যা বেশি লক্ষ করা যায়। আবার ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু মানুষ গৃহহারা হচ্ছে। পরবর্তীতে এ মানুষগুলোই মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে শহরে আসতে শুরু করে। ২০২২ সালে পরিচালিত জনশুমারি ও গৃহ গণনা রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে বাসগৃহের সংখ্যা ৩,৫৯,৯০,৯৫১টি। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহ গণনা রিপোর্ট অনুযায়ী বস্তিবাসীর জনসংখ্যা ১৮,০০,৪৮৬ জন, আর ভাসমান জনসংখ্যা ২২১৮৫। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত বিএসভিএস-২০১৫ রিপোর্টে দেখা যায়, বাংলাদেশে শতকরা ৪৫ ভাগ মানুষ এখনও টিন ও কাঠের নির্মিত ঘরে বাস করছে। শতকরা ১৮.৩০ ভাগ পাকা, ২২.৭০ ভাগ আধা পাকা, ৯.৭০ ভাগ মাটি এবং ৩.৮০ ভাগ বাঁশের তৈরি ঘরে বাস করছে।
উদ্দীপকের সোহানের এলাকার গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষদের জন্য সরকার খাসজমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর তৈরি করে দিয়েছে। সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর গৃহায়ণের লক্ষ্যে উদ্দীপকের মতো আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে ১৯৯৭-৯৮ সালে গৃহায়ণ তহবিল গঠন করা হয়। এ তহবিল দ্বারা গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং গৃহায়ণ ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। শহরাঞ্চলের জন্য পুণর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ঘরে ফেরা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যার আওতায় ৫০৫৬টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়। এছাড়াও সকলের জন্য আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ, গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা সহ জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক গৃহায়ণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার শহর এলাকার বাসস্থান সমস্যাকে কমিয়ে আনার জন্য রাজউকের মাধ্যমে পূর্বাচল এলাকায় বৃহৎ পরিসরের বাসস্থান প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আবাসন সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা যায়।