উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিক মিয়ার সমস্যাসমূহ মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খাদ্য ঘাটতি পূরণ এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষিঋণ প্রদান, সেচ সুবিধা, উন্নত ও অধিক ফলনশীল বীজ সরবরাহ, উপকূলের পতিত জমি উদ্ধারসহ বহুমুখী কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। চিত্তবিনোদনের চাহিদা পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে শিল্প ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় উৎকর্ষ সাধনের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হচ্ছে। সরকার প্রণীত ২০১০ সালের শিক্ষানীতি ও তা বাস্তবায়ন এদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অভাবনীয় অগ্রগতি এনেছে। মুখস্থ নির্ভর গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে বস্ত্রখাতের উন্নয়নে বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ ও বস্তুবিষয়ক জনশক্তির চাহিদা পূরণে সরকারের বস্ত্র দপ্তর ১১টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ৪০টি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সমাজের দুস্থ ও দরিদ্র শ্রেণির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার পুরানো কাপড় আমদানিসহ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এদেশে গ্রামীণ ভূমিহীন ও দরিদ্রদের বাসস্থানের সংকট মোকাবিলায় সরকার খাস জমির ওপর 'গুচ্ছগ্রাম' প্রকল্প চালু করেছে। এছাড়া সরকার ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে। তাছাড়া সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি, যেমন— VGE, VGD, TR ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রভৃতি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এছাড়াও হতদরিদ্র স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য School Feeding কর্মসূচি, দরিদ্রদের জন্য খোলাবাজারে চাল, ডাল, আটা, তেল, পিঁয়াজ বিক্রি কর্মসূচি চালু করেছে। স্বাস্থ্যখাতে সরকার জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ও জাতীয় জনসংখ্যা নীতির অনুমোদন প্রদান করেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, সারাদেশে পুষ্টি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং বেসরকারি সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের সমস্যাসমূহ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।