“স্বার্থপরতা ও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে মানুষ অনেক সময় নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেয়।"- উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকের মালেক কবিরাজ ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়েই অস্তিত্ব রক্ষা ও স্বার্থপরতার জন্য অনৈতিক ধর্মব্যাবসায় যুক্ত হওয়ায়, “স্বার্থপরতা ও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে মানুষ অনেক সময় নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেয়।"- মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য। 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মজিদের শঠতার জন্য তার স্বার্থচিন্তা ও অস্তিত্ব রক্ষার সংকটকে দায়ী করা যায়। মজিদের জন্ম শস্যহীন অঞ্চলে। গারো পাহাড়ে সে ইমামতির দায়িত্ব নিয়েও দুবেলা খাবারের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। তাই সে ধর্মকে পুঁজি করে অনৈতিক ব্যাবসায় নেমেছে। উদ্দীপকের মালেক কবিরাজও স্বার্থরক্ষা ও অস্তিত্ব সংকট অতিক্রম করতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে কবিরাজি চিকিৎসার নামে টাকা উপার্জনের পথ বেছে নেয়। গ্রামে নতুন ডাক্তার এলে নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য সে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও নিজের স্বার্থরক্ষায় গ্রামের মানুষের সারল্যকে পুঁজি করে ধর্মব্যাবসায় নামে। আওয়ালপুরে নতুন পিরের আগমন ঘটলে সে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে নিজের স্বার্থরক্ষা করতে চায়। উদ্দীপকের মালেক কবিরাজের এহেন কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে তার স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও নিজের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বদা তৎপর ছিল। তার জন্মভূমি শস্যহীন অঞ্চলে। সেখান থেকে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সে গারো পাহাড়ে ইমামতির কাজ নেয়। কিন্তু এতেও সে দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাতে ব্যর্থ হয়। তার পর মজিদ নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে মহব্বতনগর গ্রামে ধর্মব্যাবসা শুরু করে। পুরাতন এক কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার বানিয়ে যে ধর্মব্যাবসা সে শুরু করে, তাতে ভাটা পড়ে আওয়ালপুরে পির সাহেবের আগমনে। তাই মজিদ তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে মহব্বতনগর গ্রামবাসীদের তার পক্ষে নিয়ে আসে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
HSC Bangla 1st Paper উপন্যাস : লালসালু CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · উপন্যাস : লালসালু · সৃজনশীল
“স্বার্থপরতা ও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে মানুষ অনেক সময় নীতি-নৈতিকতা বিস…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর