উপন্যাস : লালসালু Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর উপন্যাস : লালসালু অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১,০৫৯

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গফুর মিয়ার সংসার টিকিয়ে রেখেছে তার স্ত্রী মরিয়ম। বিশাল সংসারের সকল দায়িত্ব মরিয়মের গরুবাছুরের তত্ত্বতালাশ, ধান মাড়াই থেকে সিদ্ধ করা, মেহমান-মুসাফির সবকিছুই একহাতে সামলান তিনি। অবশ্য এতে তার ক্লান্তি নেই। শুধু মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একলা মনে হয়। গফুর মরিয়মের মনের অবস্থা বুঝে। কারণ সে জানে, তাদের কোনো সন্তান নেই।

Rajshahi · 2017

ক
'নিরাক পড়া' কী?

উত্তর

'নিরাক পড়া' হচ্ছে- বাতাসহীন নিস্তব্ধ গুমোট আবহাওয়া।
খ
'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি'- বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা এ দেশের প্রান্তিক মানুষের অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে। গ্রামবাংলায় সাধারণত শিক্ষার আলো জোরালো নয়। এর ফলে সেখানকার অধিকাংশ মানুষ হয় ধর্মান্ধ। তারা উন্নত চাষপদ্ধতি গ্রহণ করে না। খোদার ওপর ভরসা করে চুপ করে বসে থাকে। তাই গ্রামে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ ও শুরু হয় ক্ষুধার যন্ত্রণা। তখন ধর্মকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যবসা, ধর্মের নামে চলে ভণ্ডামি। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা প্রান্তিক মানুষের জীবনে ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মকেন্দ্রিক ব্যবসার বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।
গ
মরিয়ম 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মতই গফুরের ঘরের খুঁটি'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সংসারের সকল দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের মাধ্যমে মরিয়ম যেন 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমারই প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে। 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা চরিত্রের মধ্যে মধ্যযুগের নারীর জীবনবাস্তবতার ছাপ লক্ষণীয়। রহিমা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী কিন্তু সে ঠান্ডা এবং ধর্মভীরু মানুষ। স্বামী মজিদের প্রতি তার অগাধ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয়। স্বামীর প্রতি আনুগত্য এবং প্রথা মতো জীবনযাত্রা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সংসারের সকল কাজ সে অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পাদন করে। কোনো কাজেই যেন তার ক্লান্তি নেই। এসব আচরণগত দিক থেকে উদ্দীপকের মরিয়ম যেন রহিমার প্রতিমূর্তি। উদ্দীপকে ও 'লালসালু' উপন্যাসে চিরন্তন বাঙালি নারীর জীবনচিত্র উন্মোচিত হয়েছে রহিমা ও মরিয়ম চরিত্রে। বাঙালি নারীরা মৃত্যু ছাড়া স্বামীগৃহ ত্যাগ করে না। গৃহের সব কাজ তারা আপন করে নেয়। রহিমা ও মরিয়মের মধ্যে বাঙালি নারীর এসকল গুণের সমস্তই লক্ষ করা যায়। তারা পরিবারকে ভালোবেসে সংসারের সকল কাজকে আপন করে নিয়েছে। দিন-রাত পরিশ্রম করার পরও তাদের ক্লান্তি নেই। ঘরের খুঁটি যেমন একটি ঘরকে দাঁড় করিয়ে রাখে তেমনি মরিয়ম ও রহিমা উভয়ই ঘরের খুঁটির মতো নিজেদের সংসারের গুরুভার বহন করছে।
ঘ
'মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত কিন্তু রহিমার মাতৃহৃদয় কিছুটা পরিতৃপ্ত'- কীভাবে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত থাকলেও উপন্যাসের রহিমার মাতৃহৃদয় মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার সান্নেধ্যে কিছুটা পরিতৃপ্তি লাভ করেছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মাজার ব্যবসায়ী শঠ মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা। মাজার ও স্বামীর প্রতি অত্যধিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তার। কিন্তু সন্তান না থাকায় তার মনের মধ্যে একটা দুঃখবোধ কাজ করত। রহিমার সন্তান জন্ম দিতে না পারাকে কেন্দ্র করে মজিদ দ্বিতীয়বার বিয়ে করে জমিলাকে ঘরে তোলে, কিন্তু রহিমা অল্প বয়েসী জমিলাকে সতিন না ভেবে তার অন্তরে জমিলার প্রতি সন্তানবাৎসল্য জেগে ওঠে। উদ্দীপকের মরিয়মের মধ্যে শাশ্বত বাঙালি নারীর সকল গুণের বিস্তার লক্ষ করা যায়। তিনি স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। কিন্তু তার জীবনেও ছিল সন্তান প্রাপ্তির অপূর্ণতা। একারণে মাঝে মাঝে মরিয়ম নিজেকে বড় একলা মনে করেন। গফুর তার স্ত্রীর মনের অবস্থা বুঝতে পারেন এবং নিজেও কষ্ট পান। 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে রহিমার সাথে মাজারের খাদেম মজিদের দীর্ঘদিনের সংসার জীবনের কথা। স্বামীর প্রতি অত্যধিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে সহধর্মিণী রহিমার। কিন্তু হঠাৎ করে অসুস্থতা ও বয়সের কারণে রহিমা দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংসার যাপনের পর মজিদের মন আর স্ত্রীর প্রতি টানে না। দ্বিতীয়বার বিয়ে করে অল্প বয়সী মেয়ে জমিলাকে ঘরে আনে সে। নিঃসন্তান রহিমা কম বয়সী চঞ্চল জমিলার মাধ্যমে যেন নিজের মাতৃত্বকে অনুভব করে। জমিলার সঙ্গ তার সন্তানের অভাবকে অনেকটাই পূর্ণ করে দেয়। এদিক দিয়ে উদ্দীপকের মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত কিন্তু রহিমার মাতৃহৃদয় কিছুটা পরিতৃপ্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গফুর মিয়ার সংসার টিকিয়ে রেখেছে তার স্ত্রী মরিয়ম। বিশাল সংসারের সকল দায়িত্ব মরিয়মের গরুবাছুরের তত্ত্বতালাশ, ধান মাড়াই থেকে সিদ্ধ করা, মেহমান-মুসাফির সবকিছুই একহাতে সামলান তিনি। অবশ্য এতে তার ক্লান্তি নেই। শুধু মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একলা মনে হয়। গফুর মরিয়মের মনের অবস্থা বুঝে। কারণ সে জানে, তাদের কোনো সন্তান নেই।

Rajshahi · 2017

ক
'নিরাক পড়া' কী?

উত্তর

'নিরাক পড়া' হচ্ছে- বাতাসহীন নিস্তব্ধ গুমোট আবহাওয়া।
খ
'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি'- বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা এ দেশের প্রান্তিক মানুষের অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে। গ্রামবাংলায় সাধারণত শিক্ষার আলো জোরালো নয়। এর ফলে সেখানকার অধিকাংশ মানুষ হয় ধর্মান্ধ। তারা উন্নত চাষপদ্ধতি গ্রহণ করে না। খোদার ওপর ভরসা করে চুপ করে বসে থাকে। তাই গ্রামে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ ও শুরু হয় ক্ষুধার যন্ত্রণা। তখন ধর্মকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যবসা, ধর্মের নামে চলে ভণ্ডামি। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা প্রান্তিক মানুষের জীবনে ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মকেন্দ্রিক ব্যবসার বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।
গ
মরিয়ম 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মতই গফুরের ঘরের খুঁটি'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সংসারের সকল দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের মাধ্যমে মরিয়ম যেন 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমারই প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে। 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা চরিত্রের মধ্যে মধ্যযুগের নারীর জীবনবাস্তবতার ছাপ লক্ষণীয়। রহিমা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী কিন্তু সে ঠান্ডা এবং ধর্মভীরু মানুষ। স্বামী মজিদের প্রতি তার অগাধ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয়। স্বামীর প্রতি আনুগত্য এবং প্রথা মতো জীবনযাত্রা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সংসারের সকল কাজ সে অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পাদন করে। কোনো কাজেই যেন তার ক্লান্তি নেই। এসব আচরণগত দিক থেকে উদ্দীপকের মরিয়ম যেন রহিমার প্রতিমূর্তি। উদ্দীপকে ও 'লালসালু' উপন্যাসে চিরন্তন বাঙালি নারীর জীবনচিত্র উন্মোচিত হয়েছে রহিমা ও মরিয়ম চরিত্রে। বাঙালি নারীরা মৃত্যু ছাড়া স্বামীগৃহ ত্যাগ করে না। গৃহের সব কাজ তারা আপন করে নেয়। রহিমা ও মরিয়মের মধ্যে বাঙালি নারীর এসকল গুণের সমস্তই লক্ষ করা যায়। তারা পরিবারকে ভালোবেসে সংসারের সকল কাজকে আপন করে নিয়েছে। দিন-রাত পরিশ্রম করার পরও তাদের ক্লান্তি নেই। ঘরের খুঁটি যেমন একটি ঘরকে দাঁড় করিয়ে রাখে তেমনি মরিয়ম ও রহিমা উভয়ই ঘরের খুঁটির মতো নিজেদের সংসারের গুরুভার বহন করছে।
ঘ
'মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত কিন্তু রহিমার মাতৃহৃদয় কিছুটা পরিতৃপ্ত'- কীভাবে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত থাকলেও উপন্যাসের রহিমার মাতৃহৃদয় মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার সান্নেধ্যে কিছুটা পরিতৃপ্তি লাভ করেছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মাজার ব্যবসায়ী শঠ মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা। মাজার ও স্বামীর প্রতি অত্যধিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তার। কিন্তু সন্তান না থাকায় তার মনের মধ্যে একটা দুঃখবোধ কাজ করত। রহিমার সন্তান জন্ম দিতে না পারাকে কেন্দ্র করে মজিদ দ্বিতীয়বার বিয়ে করে জমিলাকে ঘরে তোলে, কিন্তু রহিমা অল্প বয়েসী জমিলাকে সতিন না ভেবে তার অন্তরে জমিলার প্রতি সন্তানবাৎসল্য জেগে ওঠে। উদ্দীপকের মরিয়মের মধ্যে শাশ্বত বাঙালি নারীর সকল গুণের বিস্তার লক্ষ করা যায়। তিনি স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। কিন্তু তার জীবনেও ছিল সন্তান প্রাপ্তির অপূর্ণতা। একারণে মাঝে মাঝে মরিয়ম নিজেকে বড় একলা মনে করেন। গফুর তার স্ত্রীর মনের অবস্থা বুঝতে পারেন এবং নিজেও কষ্ট পান। 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে রহিমার সাথে মাজারের খাদেম মজিদের দীর্ঘদিনের সংসার জীবনের কথা। স্বামীর প্রতি অত্যধিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে সহধর্মিণী রহিমার। কিন্তু হঠাৎ করে অসুস্থতা ও বয়সের কারণে রহিমা দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংসার যাপনের পর মজিদের মন আর স্ত্রীর প্রতি টানে না। দ্বিতীয়বার বিয়ে করে অল্প বয়সী মেয়ে জমিলাকে ঘরে আনে সে। নিঃসন্তান রহিমা কম বয়সী চঞ্চল জমিলার মাধ্যমে যেন নিজের মাতৃত্বকে অনুভব করে। জমিলার সঙ্গ তার সন্তানের অভাবকে অনেকটাই পূর্ণ করে দেয়। এদিক দিয়ে উদ্দীপকের মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত কিন্তু রহিমার মাতৃহৃদয় কিছুটা পরিতৃপ্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফয়জুল্লাহপুর একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। ধান-সুপারির মওসুমে এখানকার সকলের হাতেই টাকা-পয়সা থাকে। হাট-বাজারে থাকে লোকের ভীড়। এসময় ভিক্ষুকের আগমনও বেড়ে যায়। একদল ভিখারি হামাগুড়ি দেয় আর সুর করে 'আল্লাহর নামে দে, আল্লাহর নামে দে' বলে ভিক্ষা চায়। তাদের বিচিত্র সুরে ফয়জুল্লাহপুরের মানুষের মন নরম হয়। একারণে অনেকেই টাকা বা আধুলী ফেলে যায় তাদের থালায়। ব্যাপারটা এখানকার স্থানীয় ভিক্ষুকদের সহ্য হয় না। তারা লাঠিসোটা নিয়ে ওই ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

Rajshahi · 2017

ক
ধলা মিয়া কে?

উত্তর

খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তানু বিবির বড় ভাই ধলা মিয়া।
খ
'দলিল-দস্তাবেজ জাল হয়, কিন্তু খোদাতালার কালাম জাল হয় না'- একথার তাৎপর্য কী?

উত্তর

'লালসালু' উপন্যাসের ভণ্ডপীর মজিদ তার দেওয়া পানিপড়া প্রতিদ্বন্দ্বী পীরের নামে খাওয়া হবে শুনে ক্ষেপে গিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি সন্তান কামনায় আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরের কাছ থেকে পানিপড়া খেতে চায়। কিন্তু ভণ্ডপীর মজিদের সাথে সেই পীরের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব থাকার কারণে ব্যাপারী তার ছোট স্ত্রীর ভাই ধলা মিয়াকে গোপনে রাতের অন্ধকারে আওয়ালপুরে গিয়ে পানিপড়া আনতে বলে। কিন্তু ধলা মিয়া ভীতু প্রকৃতির লোক হওয়ায় রাতের অন্ধকারে সেখানে না গিয়ে মজিদের কাছে আসে পানিপড়া নিতে। আর মজিদকে এই পানিপড়া দেওয়ার কথা গোপন রাখতে বলে। মজিদের পানিপড়া আওয়ালপুরে আগত পীরের নামে চালিয়ে দেওয়ার হঠকারিতাপূর্ণ প্রস্তাবে মজিদ রেগে গিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
গ
'লালসালু' উপন্যাসের কোন ঘটনার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'লালসালু' উপন্যাসে আওয়ালপুরে আসা নতুন পীর ও মজিদের স্বার্থগত দ্বন্দ্বের সঙ্গে উদ্দীপকের দুই দল ভিখারীর সাদৃশ্য রয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্যবেছে নেয় মাজার ব্যবসার মতো অসৎ পন্থা। একটি পুরোনো কবরকে মাজার হিসেবে প্রচার করে শুরু হয় তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রাম। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই দমন করার চেষ্টা করেছে মজিদ। আওয়ালপুরে নতুন পীরের আগমন ঘটায় মজিদের একক ধর্মীয় আধিপত্যে ভাটা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মজিদের সাথে আউয়ালপুরের পীরের দ্বন্দ্ব বাধে এবং তার কিছু অনুসারী নতুন পীরের সভায় হামলা চালায়। উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। স্থানীয় ভিক্ষুকদের মধ্যে এক ধরনের অস্তিত্ব সংকট দেখা দেয়। তারা চায় না, তাদের নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি হোক। তাই তারা নতুন ভিক্ষুকদের ওপর আক্রমণ চালায়। তারাও নিজ অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। যেমনটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্বার্থগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে আওয়ালপুরের পীরের ওপর হামলা চালায়। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এমন ঘটনা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। এই ঘটনাদ্বয়ই 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের মাঝে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
ঘ
'মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে' মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের সাথে উদ্দীপকের ফকিরদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার অপকৌশল অবলম্বনের মধ্যে অমিল রয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজ বাসস্থান ছেড়ে কিছুদিন গারো পাহাড়ে বসবাস করে। এরপর, কোনো এক শ্রাবণের ঝিমিয়ে পড়া দুপুরে সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। এখানে একটি পুরোনো কবরকে মাজার বানিয়ে সেটিকে পুঁজি করে ব্যবসা শুরু করে সে। অর্থাৎ, ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার দিক থেকে মজিদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উপন্যাসে। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই সে কৌশলে পরাজিত করেছে। উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের ভিক্ষুকদের মাঝেও টিকে থাকার সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। তাই ধান-সুপারির মওসুমে গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ তারা চায় না, তাদের আয়ের পথে নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন ঘটুক। আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরসাহেবের ওপর মজিদের আক্রোশের কারণ হিসেবে এরূপ বিষয়ই লক্ষ করা যায়। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কিংবা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুক উভয়েই অস্তিত্বের সংকটে পড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হিসেবে তারা অন্য পক্ষকে প্রতিহত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মজিদ বা ভিক্ষুকরা উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে একই মনোভাবের মানুষ। কিন্তু সমস্যা সমাধানে তাদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়। কেননা, নতুন পীরকে দমন করতে মজিদ যেমন কৌশলী পন্থা অবলম্বন করেছিল, উদ্দীপকের ভিক্ষুকরা তা পারেনি। মজিদ তার চতুরতার সাহায্যে আওয়ালপুরের পীরকে সবার সামনে ভণ্ড প্রমাণ করতে চেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ভিক্ষুকরা আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের তাড়াতে চেয়েছে। সুতরাং 'মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে'- মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফয়জুল্লাহপুর একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। ধান-সুপারির মওসুমে এখানকার সকলের হাতেই টাকা-পয়সা থাকে। হাট-বাজারে থাকে লোকের ভীড়। এসময় ভিক্ষুকের আগমনও বেড়ে যায়। একদল ভিখারি হামাগুড়ি দেয় আর সুর করে 'আল্লাহর নামে দে, আল্লাহর নামে দে' বলে ভিক্ষা চায়। তাদের বিচিত্র সুরে ফয়জুল্লাহপুরের মানুষের মন নরম হয়। একারণে অনেকেই টাকা বা আধুলী ফেলে যায় তাদের থালায়। ব্যাপারটা এখানকার স্থানীয় ভিক্ষুকদের সহ্য হয় না। তারা লাঠিসোটা নিয়ে ওই ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

Rajshahi · 2017

ক
ধলা মিয়া কে?

উত্তর

খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তানু বিবির বড় ভাই ধলা মিয়া।
খ
'দলিল-দস্তাবেজ জাল হয়, কিন্তু খোদাতালার কালাম জাল হয় না'- একথার তাৎপর্য কী?

উত্তর

'লালসালু' উপন্যাসের ভণ্ডপীর মজিদ তার দেওয়া পানিপড়া প্রতিদ্বন্দ্বী পীরের নামে খাওয়া হবে শুনে ক্ষেপে গিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি সন্তান কামনায় আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরের কাছ থেকে পানিপড়া খেতে চায়। কিন্তু ভণ্ডপীর মজিদের সাথে সেই পীরের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব থাকার কারণে ব্যাপারী তার ছোট স্ত্রীর ভাই ধলা মিয়াকে গোপনে রাতের অন্ধকারে আওয়ালপুরে গিয়ে পানিপড়া আনতে বলে। কিন্তু ধলা মিয়া ভীতু প্রকৃতির লোক হওয়ায় রাতের অন্ধকারে সেখানে না গিয়ে মজিদের কাছে আসে পানিপড়া নিতে। আর মজিদকে এই পানিপড়া দেওয়ার কথা গোপন রাখতে বলে। মজিদের পানিপড়া আওয়ালপুরে আগত পীরের নামে চালিয়ে দেওয়ার হঠকারিতাপূর্ণ প্রস্তাবে মজিদ রেগে গিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
গ
'লালসালু' উপন্যাসের কোন ঘটনার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'লালসালু' উপন্যাসে আওয়ালপুরে আসা নতুন পীর ও মজিদের স্বার্থগত দ্বন্দ্বের সঙ্গে উদ্দীপকের দুই দল ভিখারীর সাদৃশ্য রয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্যবেছে নেয় মাজার ব্যবসার মতো অসৎ পন্থা। একটি পুরোনো কবরকে মাজার হিসেবে প্রচার করে শুরু হয় তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রাম। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই দমন করার চেষ্টা করেছে মজিদ। আওয়ালপুরে নতুন পীরের আগমন ঘটায় মজিদের একক ধর্মীয় আধিপত্যে ভাটা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মজিদের সাথে আউয়ালপুরের পীরের দ্বন্দ্ব বাধে এবং তার কিছু অনুসারী নতুন পীরের সভায় হামলা চালায়। উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। স্থানীয় ভিক্ষুকদের মধ্যে এক ধরনের অস্তিত্ব সংকট দেখা দেয়। তারা চায় না, তাদের নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি হোক। তাই তারা নতুন ভিক্ষুকদের ওপর আক্রমণ চালায়। তারাও নিজ অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। যেমনটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্বার্থগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে আওয়ালপুরের পীরের ওপর হামলা চালায়। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এমন ঘটনা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। এই ঘটনাদ্বয়ই 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের মাঝে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
ঘ
'মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে' মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের সাথে উদ্দীপকের ফকিরদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার অপকৌশল অবলম্বনের মধ্যে অমিল রয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজ বাসস্থান ছেড়ে কিছুদিন গারো পাহাড়ে বসবাস করে। এরপর, কোনো এক শ্রাবণের ঝিমিয়ে পড়া দুপুরে সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। এখানে একটি পুরোনো কবরকে মাজার বানিয়ে সেটিকে পুঁজি করে ব্যবসা শুরু করে সে। অর্থাৎ, ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার দিক থেকে মজিদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উপন্যাসে। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই সে কৌশলে পরাজিত করেছে। উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের ভিক্ষুকদের মাঝেও টিকে থাকার সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। তাই ধান-সুপারির মওসুমে গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ তারা চায় না, তাদের আয়ের পথে নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন ঘটুক। আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরসাহেবের ওপর মজিদের আক্রোশের কারণ হিসেবে এরূপ বিষয়ই লক্ষ করা যায়। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কিংবা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুক উভয়েই অস্তিত্বের সংকটে পড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হিসেবে তারা অন্য পক্ষকে প্রতিহত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মজিদ বা ভিক্ষুকরা উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে একই মনোভাবের মানুষ। কিন্তু সমস্যা সমাধানে তাদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়। কেননা, নতুন পীরকে দমন করতে মজিদ যেমন কৌশলী পন্থা অবলম্বন করেছিল, উদ্দীপকের ভিক্ষুকরা তা পারেনি। মজিদ তার চতুরতার সাহায্যে আওয়ালপুরের পীরকে সবার সামনে ভণ্ড প্রমাণ করতে চেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ভিক্ষুকরা আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের তাড়াতে চেয়েছে। সুতরাং 'মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে'- মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তিন স্ত্রীর সাথে সংসার করেন আব্বাস আলী দফাদার। গত মাসে তিনি প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনেছেন। এই অল্প বয়সের বউকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে দেন না। কথার অন্যথা হলে বউকে নানাভাবে শাসন করেন। একদিন পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে ছোট বউকে তিনি শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ খুব কষ্ট পায় এবং সারারাত না ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু কমবয়সি মেয়েটাকে ঘরে ডেকে নেবার সাহস সে পায় না।

Chittagong · 2017

ক
মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার কী মনে হয়েছিল?

উত্তর

মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার দুলার বাপ (বরের বাবা) বলে মনে হয়েছিল।
খ
মজিদের মুখে কে থুথু দিয়েছিল এবং কেন?

উত্তর

মজিদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলাকে শাস্তি দিতে জোর করে মাজারের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় জমিলা নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে মজিদের মুখে থুথু দিয়েছিল। মজিদের আদেশে নামাজ পড়তে গিয়ে জমিলা জায়নামাজেই ঘুমিয়ে পড়ে। বিষয়টি লক্ষ করে মজিদ জমিলার ওপর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। জমিলাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে তার হাত ধরে টানতে টানতে মাজারের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু জমিলা মাঝ উঠোনে এসে আর সামনে এগোতে চায় না। সে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে মজিদের বজ্রমুষ্ঠি থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যখন অনেক চেষ্টা করেও হাত ছাড়াতে পারে না তখন সে হঠাৎ সোজা হয়ে মজিদের কাছে এসে তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করে।
গ
উদ্দীপকে আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রতিনিধিত্ব করে। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ। তার প্রথম স্ত্রী রহিমার সন্তান ধারণের অক্ষমতার কথা বলে কৌশলে সে দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। রহিমার নিঃসন্তান হওয়ার অজুহাতে মেয়ের বয়সি জমিলাকে বিয়ে করে মনের বাসনা পূরণ করে সে। কিশোরী জমিলা মজিদের কথামতো না চললে রাতের বেলা মাজারে একা বেঁধে রাখাসহ তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করে। আর এসকল আচরণের মাধ্যমে মজিদ চরিত্রের নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য দিকটির পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদারের মাঝেও বিয়ে করার বাসনা চরিতার্থ করার মানসিকতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এই অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে বা তাদের সাথে কথা বলতে দেন না। তার কথার অবাধ্য হলে নানাভাবে স্ত্রীকে শাস্তি দেন। মজিদও প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে ও তার কথা না মানলে নানাভাবে শাস্তি দেয়। তাই বলা যায়, বিয়ে করার বাসনাও নিষ্ঠুর মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ
'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সতীনটির জন্য'- উদ্দীপকটি অবলম্বনে 'লালসালু' উপন্যাসের এই মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

'লালসালু' উপন্যাসে কিশোরী জমিলার প্রতি মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মাতৃহৃদয়ের আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রথম স্ত্রীর নাম রহিমা। সে নরম স্বভাব ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। মজিদের প্রতি তার সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয় রয়েছে। রহিমা নিঃসন্তান হওয়ায় মজিদ সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষায় অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে। সম্পর্কে সতীন হলেও জমিলার সহজ-সরল ও চপল স্বভাব রহিমার নারীহৃদয়ে মাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। রহিমা জমিলাকে সতীন না ভেবে খুব সহজেই সন্তান স্নেহে আপন করে নেয়। নিঃসন্তান রহিমা যেন জমিলার মাঝেই সন্তানের ছায়া দেখতে পায়। উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার তিন স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি একটি মেয়েকে বিয়ে করে আনেন। অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে দেন না। বরং তার কথার অবাধ্য হলে তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করেন। একবার পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে আব্বাস আলী ছোট বউকে শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ মনে খুব কষ্ট পায়। কেননা সে ছোট বউকে সতীন হিসেবে না ভেবে সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। 'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রের মাঝে এক অকৃত্রিম মাতৃমূর্তি প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সে জমিলাকে সতীনের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখেছে। মজিদ যতবার জমিলাকে শাস্তি দিয়েছে ঠিক ততবার রহিমার মাতৃহৃদয়ে কষ্ট অনুভূত হয়েছে। উপন্যাসের রহিমার এমন মানসিকতা উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রীর মাঝেও লক্ষ করা যায়। সেও ছোট বউয়ের প্রতি আব্বাস আলীর অন্যায়-অত্যাচার ও শাস্তিতে ব্যথিত হয়ে ওঠে। এদিক থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা ও উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রী একই মানসিকতার মানুষ। অতএব বলতে পারি, 'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সতীনটির জন্য'- 'লালসালু' উপন্যাসের এই মন্তব্যটি উদ্দীপকের আলোকে যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তিন স্ত্রীর সাথে সংসার করেন আব্বাস আলী দফাদার। গত মাসে তিনি প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনেছেন। এই অল্প বয়সের বউকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে দেন না। কথার অন্যথা হলে বউকে নানাভাবে শাসন করেন। একদিন পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে ছোট বউকে তিনি শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ খুব কষ্ট পায় এবং সারারাত না ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু কমবয়সি মেয়েটাকে ঘরে ডেকে নেবার সাহস সে পায় না।

Chittagong · 2017

ক
মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার কী মনে হয়েছিল?

উত্তর

মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার দুলার বাপ (বরের বাবা) বলে মনে হয়েছিল।
খ
মজিদের মুখে কে থুথু দিয়েছিল এবং কেন?

উত্তর

মজিদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলাকে শাস্তি দিতে জোর করে মাজারের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় জমিলা নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে মজিদের মুখে থুথু দিয়েছিল। মজিদের আদেশে নামাজ পড়তে গিয়ে জমিলা জায়নামাজেই ঘুমিয়ে পড়ে। বিষয়টি লক্ষ করে মজিদ জমিলার ওপর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। জমিলাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে তার হাত ধরে টানতে টানতে মাজারের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু জমিলা মাঝ উঠোনে এসে আর সামনে এগোতে চায় না। সে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে মজিদের বজ্রমুষ্ঠি থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যখন অনেক চেষ্টা করেও হাত ছাড়াতে পারে না তখন সে হঠাৎ সোজা হয়ে মজিদের কাছে এসে তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করে।
গ
উদ্দীপকে আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রতিনিধিত্ব করে। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ। তার প্রথম স্ত্রী রহিমার সন্তান ধারণের অক্ষমতার কথা বলে কৌশলে সে দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। রহিমার নিঃসন্তান হওয়ার অজুহাতে মেয়ের বয়সি জমিলাকে বিয়ে করে মনের বাসনা পূরণ করে সে। কিশোরী জমিলা মজিদের কথামতো না চললে রাতের বেলা মাজারে একা বেঁধে রাখাসহ তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করে। আর এসকল আচরণের মাধ্যমে মজিদ চরিত্রের নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য দিকটির পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদারের মাঝেও বিয়ে করার বাসনা চরিতার্থ করার মানসিকতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এই অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে বা তাদের সাথে কথা বলতে দেন না। তার কথার অবাধ্য হলে নানাভাবে স্ত্রীকে শাস্তি দেন। মজিদও প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে ও তার কথা না মানলে নানাভাবে শাস্তি দেয়। তাই বলা যায়, বিয়ে করার বাসনাও নিষ্ঠুর মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ
'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সতীনটির জন্য'- উদ্দীপকটি অবলম্বনে 'লালসালু' উপন্যাসের এই মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

'লালসালু' উপন্যাসে কিশোরী জমিলার প্রতি মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মাতৃহৃদয়ের আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রথম স্ত্রীর নাম রহিমা। সে নরম স্বভাব ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। মজিদের প্রতি তার সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয় রয়েছে। রহিমা নিঃসন্তান হওয়ায় মজিদ সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষায় অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে। সম্পর্কে সতীন হলেও জমিলার সহজ-সরল ও চপল স্বভাব রহিমার নারীহৃদয়ে মাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। রহিমা জমিলাকে সতীন না ভেবে খুব সহজেই সন্তান স্নেহে আপন করে নেয়। নিঃসন্তান রহিমা যেন জমিলার মাঝেই সন্তানের ছায়া দেখতে পায়। উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার তিন স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি একটি মেয়েকে বিয়ে করে আনেন। অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে দেন না। বরং তার কথার অবাধ্য হলে তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করেন। একবার পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে আব্বাস আলী ছোট বউকে শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ মনে খুব কষ্ট পায়। কেননা সে ছোট বউকে সতীন হিসেবে না ভেবে সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। 'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রের মাঝে এক অকৃত্রিম মাতৃমূর্তি প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সে জমিলাকে সতীনের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখেছে। মজিদ যতবার জমিলাকে শাস্তি দিয়েছে ঠিক ততবার রহিমার মাতৃহৃদয়ে কষ্ট অনুভূত হয়েছে। উপন্যাসের রহিমার এমন মানসিকতা উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রীর মাঝেও লক্ষ করা যায়। সেও ছোট বউয়ের প্রতি আব্বাস আলীর অন্যায়-অত্যাচার ও শাস্তিতে ব্যথিত হয়ে ওঠে। এদিক থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা ও উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রী একই মানসিকতার মানুষ। অতএব বলতে পারি, 'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সতীনটির জন্য'- 'লালসালু' উপন্যাসের এই মন্তব্যটি উদ্দীপকের আলোকে যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো