"উদ্দীপকের ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা চরিত্রের অভাব মহব্বতনগর গ্রামের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়ার একমাত্র কারণ।" মন্তব্যটি বিচার করো।
উত্তর: "উদ্দীপকের ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা চরিত্রের অভাব মহব্বতনগর গ্রামের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়ার একমাত্র কারণ"- মন্তব্যটি আংশিক সত্য, কারণ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়ার জন্য অশিক্ষা ও কুসংস্কারও দায়ী। 'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামে ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা চরিত্রের অভাব লক্ষণীয়। তাহের-কাদেরের বাপ মজিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকেও ভেঙে দেয় মজিদ। খালেক ব্যাপারী প্রভাবশালী হয়েও মজিদের সঙ্গে আপস করে। এসব দৃঢ়চেতা চরিত্রের প্রভাব গ্রামের অবস্থা অপরিবর্তিত রাখতে ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপকে হানিফের নেতৃত্বে তরুণরা দৃঢ়চেতা হয়ে গ্রন্থাগার করার উদ্যোগ নেয়। সলেমান মেম্বারের বাধা সত্ত্বেও তারা কাজ চালিয়ে যায়। কিন্তু উপন্যাসে মহব্বতনগরে এমন কোনো দৃঢ়চেতা চরিত্র নেই। আওয়ালপুরের পির সাহেবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি এলেও গ্রামবাসীরা মজিদের ভয়ে তাকে গ্রহণ করে না। 'লালসালু' উপন্যাসে গ্রামের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়ার পেছনে শুধু ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা চরিত্রের অভাব নয়, বরং আরও কিছু কারণ দায়ী। গ্রামবাসীর অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার তাদেরকে মজিদের প্রতারণা চিনতে বাধা দেয়। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দারিদ্র্য তাদেরকে মজিদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। শিক্ষার অভাব ও সামাজিক সচেতনতার অভাবে তারা নিজেদের অবস্থা বুঝতে পারে না। সামগ্রিকভাবে মহব্বতনগর গ্রামের করুণ পরিণতির পেছনে ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা চরিত্রের অভাব যেমন দায়ী, তেমনই দায়ী অন্ধবিশ্বাস, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব ও সামাজিক কাঠামোর দুর্বলতা।
HSC Bangla 1st Paper উপন্যাস : লালসালু CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · উপন্যাস : লালসালু · সৃজনশীল
"উদ্দীপকের ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা চরিত্রের অভাব মহব্বতনগর গ্রামের ভাগ্য …
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর