উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামবাসীর প্রতিনিধিত্ব করে। — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাঁওতাল পরগনার মানুষের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সারল্য মহব্বতনগর গ্রামবাসীদের অনুরূপ। 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মব্যবসার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। মজিদের মতো বাংলার আনাচে-কানাচে অসংখ্য ভণ্ড মাজার ব্যবসায়ীরা ধর্মের নামে মানুষকে অত্যাচার ও শোষণ করে চলে। মজিদ নিরীহ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার স্বার্থ হাসিল করে। উদ্দীপকের সুন্দরলাল সাঁওতাল জনগোষ্ঠীতে সাধু সেজে প্রতারণা করে ৷ অশিক্ষিত ধর্মবিশ্বাসী লোকগুলো সাধুর প্রতি স্বভাবগতভাবেই দুর্বল থাকে। সে দুর্বলতার সুযোগে সুন্দরলালের মতো অসাধু লোক নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করে। সে অলৌকিক কার্যকলাপের মিথ্যা অভিনয়ে সাঁওতালদের চা বাগানে বন্দি করতে চায়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন সরল বিশ্বাসী মানুষগুলোকে সুন্দরলালের মতো প্রতারক সাধুর অমানবিকতার নিষ্ঠুর বলি হতে হয়। 'লালসালু' উপন্যাসেও ধর্মব্যবসার নিষ্ঠুর কশাঘাতে মানুষের জীবন- সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অশিক্ষিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ধর্মের আসল মাহাত্ম্য জানে না। তাই পিরেরা তাদের যে প্রতারিত ও নিষ্পেষিত করে তা তারা বুঝতে পারে না। অস্তিত্বের প্রয়োজনেই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ মহব্বতনগরে আসে। গ্রামে ঢুকে অচেনা ও অজানা এক কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার বলে সে প্রচার করে এবং কবরটিকে অযত্নে ফেলে রাখায় সে গ্রামবাসীকে ভর্ৎসনা করে। নিরীহ, অজ্ঞ ও ধর্মবিশ্বাসী লোকগুলো এসবের কোনো প্রতি উত্তর খুঁজে পায় না। ফলে মাজারের খাদেম বেশে মজিদ হয়ে ওঠে গ্রামের ক্ষমতাধর ব্যক্তি। খালেক ব্যাপারীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিও মজিদের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। সমাজের সরল বিশ্বাসী মানুষগুলো যদি সচেতন ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতো তাহলে মজিদ ও উদ্দীপকের সুন্দরলালের মতো প্রতারকরা মানুষকে শোষণ করতে সক্ষম হতো না। সুতরাং, পরিণতির দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামবাসীর প্রতিনিধিত্ব করে।
HSC Bangla 1st Paper উপন্যাস : লালসালু CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · উপন্যাস : লালসালু · সৃজনশীল
উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগ…
উদ্দীপক
Barisal · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর