বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বহির্বিশ্বে প্রচার করা এবং এর প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি ও স্বীকৃতি আদায় করা ছিল এ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্রিটেনে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সেখানে প্রবাসী বাঙালিদেরকে সংঘবদ্ধ করে আন্দোলন ও জনমত গঠনে বিশেষ সফলতা এসেছিল। ইরাক, ফিলিপাইন, আর্জেন্টিনা, কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, কাঠমান্ডু, হংকং প্রভৃতি স্থানে নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিকগণ মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকারের প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। বহির্বিশ্বে তৎপরতার ফলে এ সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, বাংলাদেশের সমস্যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা শরণার্থী সমস্যা নয় বরং এ ছিল শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রাম। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমেরিকা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করলেও আমেরিকার জনগণ ও প্রচার মাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল। এমনকি জনমতের চাপে আমেরিকা, বিশ্বব্যাংক ও ব্রিটেন' পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় সামরিক শাসনের বিধিনিষেধ ভক্তা করে অসংখ্য ছাত্র বাংলাদেশের গণহত্যার বিরুদ্ধে মিছিল করেছিল এবং ইন্দোনেশিয়ান টেলিভিশন আগস্টে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি খন্দকার মোশতাকের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
HSC History 1st Paper Chapter 7: মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · Chapter 7: মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) · সৃজনশীল
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল খুবই গুরুত…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর