Chapter 4: পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি History 1st Paper

HSC History 1st Paper এর Chapter 4: পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতিপ্রকৃতি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩২৭

প্রশ্ন

History 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৯৬০ সালে অসমিয়া ভাষাকে আসামের অফিসিয়াল ভাষা করার জন্য বিল পাসের সময় বাংলা ভাষা ভাষীরা আন্দোলন করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৬১ সালের ১৯ মে হরতাল চলাকালে সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়।

Rajshahi · 2017

ক
কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়?

উত্তর

১৭০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়।
খ
কোন কোন দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?

উত্তর

১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পাটি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়
গ
উদ্দীপক পঠিত বিষয়ের যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে সে আন্দোলনের দুই জন শহিদের পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেন 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'। এর প্রতিবাদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ। তার জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামে। মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নকালে তিনি পড়াশোনা বন্ধকরে ঢাকায় চলে আসেন এবং পিতার মুদ্রণশিল্প ব্যবসায়ে নিয়োজিত হন। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলে অংশ নেন এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ভাষা আন্দোলনের আরেকজন শহিদ আব্দুস সালাম। তিনি ১৯২৫ সালে ফেনীর লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে তিনিও বিক্ষোভে অংশ নেন। ছাত্র জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি শহিদ হন। মহান ভাষা আন্দোলনে আব্দুস সালামের অনবদ্য ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।
ঘ
'উক্ত আন্দোলন জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত'- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত- উক্তিটি যথার্থ। বাংলা ছিল সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষা। এক পরিসংখ্যান অনুসারে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩.২৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। ফলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ ও আপামর জনসাধারণ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে শহীদ হন আব্দুস সালাম, রফিক উদ্দিন, আবদুল বরকতসহ অনেকেই। তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেযা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে মাতৃভাষার চিরন্তন আবেদনকে বিশ্ববাসী স্বীকার করে নেয়। UNESCO এর ঘোষণায় বলা হয়- "21 February is proclaimed International Mother Language Day throughout the world to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this day in 1952" ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে পালিত হয়ে আসছে। উপর্যুক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, ভাষা আন্দোলন আজ জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৯৬০ সালে অসমিয়া ভাষাকে আসামের অফিসিয়াল ভাষা করার জন্য বিল পাসের সময় বাংলা ভাষা ভাষীরা আন্দোলন করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৬১ সালের ১৯ মে হরতাল চলাকালে সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়।

Rajshahi · 2017

ক
কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়?

উত্তর

১৭০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়।
খ
কোন কোন দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?

উত্তর

১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পাটি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়
গ
উদ্দীপক পঠিত বিষয়ের যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে সে আন্দোলনের দুই জন শহিদের পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেন 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'। এর প্রতিবাদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ। তার জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামে। মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নকালে তিনি পড়াশোনা বন্ধকরে ঢাকায় চলে আসেন এবং পিতার মুদ্রণশিল্প ব্যবসায়ে নিয়োজিত হন। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলে অংশ নেন এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ভাষা আন্দোলনের আরেকজন শহিদ আব্দুস সালাম। তিনি ১৯২৫ সালে ফেনীর লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে তিনিও বিক্ষোভে অংশ নেন। ছাত্র জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি শহিদ হন। মহান ভাষা আন্দোলনে আব্দুস সালামের অনবদ্য ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।
ঘ
'উক্ত আন্দোলন জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত'- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত- উক্তিটি যথার্থ। বাংলা ছিল সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষা। এক পরিসংখ্যান অনুসারে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩.২৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। ফলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ ও আপামর জনসাধারণ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে শহীদ হন আব্দুস সালাম, রফিক উদ্দিন, আবদুল বরকতসহ অনেকেই। তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেযা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে মাতৃভাষার চিরন্তন আবেদনকে বিশ্ববাসী স্বীকার করে নেয়। UNESCO এর ঘোষণায় বলা হয়- "21 February is proclaimed International Mother Language Day throughout the world to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this day in 1952" ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে পালিত হয়ে আসছে। উপর্যুক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, ভাষা আন্দোলন আজ জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দাদু তার নাতিকে এমন একজন ভাষা শহিদের গল্প শোনালেন যিনি পাকিস্তান সরকারের সচিবালয়ের পিয়ন ছিলেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে যোগ দিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন। দেড় মাস ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করে অবশেষে তিনি মারা যান। মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে সম্মানিত করা হয়। তার নামে একটি গ্রাম ও একটি ফোটিবিয়াস নামকরণ করা হয়।

Dhaka · 2017

ক
কে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন?

উত্তর

শহিদ শফিউরের পিতা সর্বপ্রথম বাংলাদেশের শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন।
খ
'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পটভূমির সূচনায় প্রবাসী বাঙালিদের অবদান সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পটভূমি সূচনায় প্রবাসী বাঙালিদের অবদান অনস্বীকার্য। কানাডার ভ্যাংকুভারে বসবাসকারী দু'জন প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। কানাডা প্রবাসী বহুভাষী জনের সংগঠন "Mother language Lovers of the world" ২১ শে ফেব্রুয়ারির ঘটনা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। ইউনেস্কোর (UNESCO) নিকট প্রেরিত চিঠির প্রেক্ষিতে ও তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
গ
উদ্দীপকের ভাষা শহিদের ন্যায় দুইজন ভাষা শহিদের পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে যে ভাষা শহিদদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তিনি শহিদ আব্দুস সালাম। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভক্তা করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে নিহত হন। ভাষা শহিদদের মধ্যে একজন হলেন শহিদ আবুল বরকত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শহিদ বরকত মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। 'তমদ্দুন মজলিশ' কর্তৃক প্রকাশিত ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিকের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা লাভ করেন তিনি। ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে গুলিবদ্ধ হন আবুল বরকত। ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে। ভাষার দাবিতে আরেকজন শহিদ শফিউর রহমান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চব্বিশপরগণার সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানি ছিলেন শহিদ শফিউর। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুনরায় পুলিশের গুলিবর্ষণে শফিউর রহমান নিহত হন। ২০০৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। উদ্দীপকে দাদু তার নাতিকে যে ভাষা শহিদের গল্প শোনাচ্ছিলেন তিনি ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম। যিনি ভাষার দাবিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। শহিদ আব্দুস সালামের মত আরো অনেক ভাষা শহিদ রয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা আজ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত।
ঘ
শহিদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করে তোলে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

শহীদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করেছে- উক্তিটি যথার্থ। খাজা নাজিমউদ্দীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর ঘোষণা করেন যে, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।' এর প্রতিবাদে ছাত্র, শিক্ষক, জনতা, গভীর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। একপর্যায়ে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি ও সকল মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ছাত্র সমাজ তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিবর্ষণে শহিদ হন রফিকউদ্দিন, আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, শফিউর রহমান সহ অনেকে। ফলে এ ঘটনা অগ্নিস্ফুলিজা হয়ে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। কেবলমাত্র ঢাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের প্রতিটি শহরে, যেমন-চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, যশোর, সাতক্ষীরায় ব্যাপক আন্দোলনের বিস্তার ঘটায়। মূলত ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, বাংলা ভাষার চর্চা বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্তরের আন্দোলনের প্রেরণা ও সূতিকাগার ছিল ভাষা আন্দোলন। মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে মর্যাদা দান করায় ভাষা আন্দোলন আজ তাৎপর্যমণ্ডিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দাদু তার নাতিকে এমন একজন ভাষা শহিদের গল্প শোনালেন যিনি পাকিস্তান সরকারের সচিবালয়ের পিয়ন ছিলেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে যোগ দিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন। দেড় মাস ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করে অবশেষে তিনি মারা যান। মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে সম্মানিত করা হয়। তার নামে একটি গ্রাম ও একটি ফোটিবিয়াস নামকরণ করা হয়।

Dhaka · 2017

ক
কে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন?

উত্তর

শহিদ শফিউরের পিতা সর্বপ্রথম বাংলাদেশের শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন।
খ
'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পটভূমির সূচনায় প্রবাসী বাঙালিদের অবদান সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পটভূমি সূচনায় প্রবাসী বাঙালিদের অবদান অনস্বীকার্য। কানাডার ভ্যাংকুভারে বসবাসকারী দু'জন প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। কানাডা প্রবাসী বহুভাষী জনের সংগঠন "Mother language Lovers of the world" ২১ শে ফেব্রুয়ারির ঘটনা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। ইউনেস্কোর (UNESCO) নিকট প্রেরিত চিঠির প্রেক্ষিতে ও তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
গ
উদ্দীপকের ভাষা শহিদের ন্যায় দুইজন ভাষা শহিদের পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে যে ভাষা শহিদদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তিনি শহিদ আব্দুস সালাম। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভক্তা করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে নিহত হন। ভাষা শহিদদের মধ্যে একজন হলেন শহিদ আবুল বরকত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শহিদ বরকত মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। 'তমদ্দুন মজলিশ' কর্তৃক প্রকাশিত ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিকের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা লাভ করেন তিনি। ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে গুলিবদ্ধ হন আবুল বরকত। ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে। ভাষার দাবিতে আরেকজন শহিদ শফিউর রহমান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চব্বিশপরগণার সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানি ছিলেন শহিদ শফিউর। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুনরায় পুলিশের গুলিবর্ষণে শফিউর রহমান নিহত হন। ২০০৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। উদ্দীপকে দাদু তার নাতিকে যে ভাষা শহিদের গল্প শোনাচ্ছিলেন তিনি ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম। যিনি ভাষার দাবিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। শহিদ আব্দুস সালামের মত আরো অনেক ভাষা শহিদ রয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা আজ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত।
ঘ
শহিদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করে তোলে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

শহীদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করেছে- উক্তিটি যথার্থ। খাজা নাজিমউদ্দীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর ঘোষণা করেন যে, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।' এর প্রতিবাদে ছাত্র, শিক্ষক, জনতা, গভীর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। একপর্যায়ে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি ও সকল মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ছাত্র সমাজ তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিবর্ষণে শহিদ হন রফিকউদ্দিন, আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, শফিউর রহমান সহ অনেকে। ফলে এ ঘটনা অগ্নিস্ফুলিজা হয়ে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। কেবলমাত্র ঢাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের প্রতিটি শহরে, যেমন-চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, যশোর, সাতক্ষীরায় ব্যাপক আন্দোলনের বিস্তার ঘটায়। মূলত ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, বাংলা ভাষার চর্চা বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্তরের আন্দোলনের প্রেরণা ও সূতিকাগার ছিল ভাষা আন্দোলন। মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে মর্যাদা দান করায় ভাষা আন্দোলন আজ তাৎপর্যমণ্ডিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফাল্গুন মাসের ভোরবেলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে বেরিয়ে গেল রাশেদ। সতীর্থদের সাথে এক হয়ে ধীরে ধীরে চলছে এক বেদীর দিকে। তাদের হাতে ফুল। মুখে গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...।...।

Rajshahi · 2018

ক
কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর

১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ
যুক্তফ্রন্টের ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

১৯৫৩ সালে ৪ ডিসেম্বর ৪টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের দলসমূহ ছিল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলার নেতৃত্বে কৃষক-প্রজা পার্টি, মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বে নেজামে ইসলাম ও হাজি দানেশের নেতৃত্বে গণতন্ত্রী দল। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা । ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৬টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের যে ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে। পাকিস্তান সৃষ্টি আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলা-উর্দু ভাষা বিতর্ক শুরু . হয়। ১৯৪৭ সালে চৌধুরি খালীকুজ্জামান এবং ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ .. উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় একইভাবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ছাত্র-শিক্ষকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়। গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% বাংলা ভাষাভাষী হওয়াতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে শহরে-বন্দরে দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ শামিল হয়। শিল্প, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলও বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া বাংলা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালে মহীরুহে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে, ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিল নিয়ে বের হলে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় এবং রফিক, জব্বার, বরকত, সালামস্হ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রচনা করা হয় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি ldots
ঘ
“বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ”– বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা, শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। এভাবেই বাঙালির মাঝে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের এ চেতনা ১৯৬২ সালে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা বাঙালি জনগণকে উজ্জীবিত করে। ১৯৫২ সালের বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনায় চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এর ফলে বাংলাদেশেই সম্ভবত বিশ্বে প্রথম জাতিরাষ্ট্র যা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনায় জাগ্রত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফাল্গুন মাসের ভোরবেলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে বেরিয়ে গেল রাশেদ। সতীর্থদের সাথে এক হয়ে ধীরে ধীরে চলছে এক বেদীর দিকে। তাদের হাতে ফুল। মুখে গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...।...।

Rajshahi · 2018

ক
কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর

১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ
যুক্তফ্রন্টের ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

১৯৫৩ সালে ৪ ডিসেম্বর ৪টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের দলসমূহ ছিল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলার নেতৃত্বে কৃষক-প্রজা পার্টি, মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বে নেজামে ইসলাম ও হাজি দানেশের নেতৃত্বে গণতন্ত্রী দল। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা । ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৬টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের যে ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে। পাকিস্তান সৃষ্টি আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলা-উর্দু ভাষা বিতর্ক শুরু . হয়। ১৯৪৭ সালে চৌধুরি খালীকুজ্জামান এবং ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ .. উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় একইভাবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ছাত্র-শিক্ষকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়। গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% বাংলা ভাষাভাষী হওয়াতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে শহরে-বন্দরে দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ শামিল হয়। শিল্প, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলও বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া বাংলা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালে মহীরুহে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে, ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিল নিয়ে বের হলে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় এবং রফিক, জব্বার, বরকত, সালামস্হ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রচনা করা হয় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি ldots
ঘ
“বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ”– বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা, শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। এভাবেই বাঙালির মাঝে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের এ চেতনা ১৯৬২ সালে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা বাঙালি জনগণকে উজ্জীবিত করে। ১৯৫২ সালের বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনায় চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এর ফলে বাংলাদেশেই সম্ভবত বিশ্বে প্রথম জাতিরাষ্ট্র যা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনায় জাগ্রত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো