HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
১৯৬০ সালে অসমিয়া ভাষাকে আসামের অফিসিয়াল ভাষা করার জন্য বিল পাসের সময় বাংলা ভাষা ভাষীরা আন্দোলন করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৬১ সালের ১৯ মে হরতাল চলাকালে সাধারণ মানুষের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এগারো জন প্রাণ হারায়।
Rajshahi · 2017
ক
কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়?
উত্তর
১৭০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়।
খ
কোন কোন দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
উত্তর
১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পাটি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়
গ
উদ্দীপক পঠিত বিষয়ের যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে সে আন্দোলনের দুই জন শহিদের পরিচয় দাও।
উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেন 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'। এর প্রতিবাদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ। তার জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামে। মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নকালে তিনি পড়াশোনা বন্ধকরে ঢাকায় চলে আসেন এবং পিতার মুদ্রণশিল্প ব্যবসায়ে নিয়োজিত হন। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলে অংশ নেন এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ভাষা আন্দোলনের আরেকজন শহিদ আব্দুস সালাম। তিনি ১৯২৫ সালে ফেনীর লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে তিনিও বিক্ষোভে অংশ নেন। ছাত্র জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি শহিদ হন। মহান ভাষা আন্দোলনে আব্দুস সালামের অনবদ্য ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।
ঘ
'উক্ত আন্দোলন জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত'- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা ছিল সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষা। এক পরিসংখ্যান অনুসারে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩.২৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। ফলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ ও আপামর জনসাধারণ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে শহীদ হন আব্দুস সালাম, রফিক উদ্দিন, আবদুল বরকতসহ অনেকেই। তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেযা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে মাতৃভাষার চিরন্তন আবেদনকে বিশ্ববাসী স্বীকার করে নেয়। UNESCO এর ঘোষণায় বলা হয়- "21 February is proclaimed International Mother Language Day throughout the world to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this day in 1952" ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে পালিত হয়ে আসছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, ভাষা আন্দোলন আজ জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো