উদ্দীপকে পাখির ধারণা গুলোতে বয়োসন্ধিকালীন মানসিক স্বাস্থ্যের যেসব উপাদানের প্রভাব লক্ষণীয় তা হলো পারিবারিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
পারিবারিক প্রভাব: মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পারিবারিক পরিবেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। একটি সুখী পরিবার শিশুর সুষ্ঠু আচরণ বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। সুদ্ধ পারিবারিক পরিবেশে শিশুর মধ্যে কিছু ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা যায়। এগুলো হলো: সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাব, মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন, সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়ে, আস্থাবান ও আশাবাদী হয়, স্বাবলম্বী হয় এবং সহজে অন্যের সাথে মেলামেশা করতে পারে। যে শিশু ছোটবেলায় রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হয় সে পরনির্ভরশীলতা, মা বাবার কাছে নত থাকা এবং অন্যের সাহায্য নিয়ে কাজ করে থাকে। বয়োসন্ধিকালে ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় পরিবার থেকে অধিক বিচ্ছিন্ন থাকতে চায়। গৃহ-পরিবেশে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকলে শিশুদের মধ্যে নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি ইতিবাচক আচরণ গড়ে উঠে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: অর্থনৈতিক বিষয় বয়োসন্ধিকালের জন্য অন্যতম সমস্যা। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা অর্থের কথা বিশেষভাবে চিন্তা করে। কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে তা ভাবতে শিখে। কোন পেশায় সফলতা আসবে তা নিয়ে চিন্তা করে থাকে। বয়োসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা বন্ধুদের মতো পোশাক-পরিচ্ছেদ, বাইসাইকেল, খাদ্যসামগ্রী, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গেইমস ইত্যাদি পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আর্থিক বৈষমের কারণে অনেকের চাহিদা অতৃপ্ত থেকে যায় যা পরবর্তীতে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অর্থনৈতিক বৈষম্য ছেলেমেয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে। অর্থের অভাবে অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের সব চাহিদা মেটাতে পারে না। তাই তারা তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য কারও পকেট কাটা, চুরি করা প্রভৃতি অপরাধে লিপ্ত হয়। আর্থিক বৈষম্যের দরুন ও বয়োসন্ধিতে আচরণে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আবার অনেক বেশি অর্থ থাকার কারণে উচ্চবিত্তের অনেক ছেলেমেয়ে লাগামহীন হয়ে উঠে এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে এবং ভোগবাদে বিশ্বাসী হয়ে উঠে ও নৈতিকতা বর্জিত কর্মকান্ডে অংশ নেয়।
অর্থাৎ পাখির ধারণাগুলোতে বয়সন্ধিকালীন মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পারিবারিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ।