Chapter 7 : বয়ঃসন্ধিকাল ও মানসিক স্বাস্থ্য Psychology 1st Paper

HSC Psychology 1st Paper এর Chapter 7 : বয়ঃসন্ধিকাল ও মানসিক স্বাস্থ্য অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২১৯

প্রশ্ন

Psychology 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
মানসিক স্বাস্থ্য কী?

উত্তর

জ্ঞানের যে শাখায় মনোরোগ মুক্ত সুস্থ জীবনযাপন ও আত্মোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ ও নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলা হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনে WHO-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো WHO বা World Health Organization। যা মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সংস্থা জনগণকে মানসিক রোগ সম্পর্কে শিক্ষাদান করে এবং মানসিক রোগী সম্পর্কে বিভ্রান্তমূলক ধারণাসমূহ দূর করে তাদের প্রতি সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক রোগী শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানসিক রোগের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
দৃশ্যকল্প-১ এ মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পরিবেশের কোন উপাদানের প্রভাব ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পরিবেশের যে উপাদানের প্রভাব ফুটে উঠেছে তা হলো পারিবারিক পরিবেশ। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো- মানসিক স্বাস্থ্য হলো শিশুদের মধ্য হতে অবাঞ্ছিত অসংগতি দূর করা এবং সহজ স্বাচ্ছন্দ্য জীবনের প্রতিশ্রুতি প্রদান। যার প্রথম কাজটি শুরু হয় পরিবার বা গৃহ-পরিবেশ থেকে। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক-শৈশবকাল থেকে বয়োসন্ধিকাল এবং তারুণ্যকাল পর্যন্ত শিশুর যে মানসিক বিকাশ ঘটে, সেখানে মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতি আদর, অতি অবহেলা, অতি শাসন শিশুর স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্যকে যেমন বিঘ্নিত করে, তেমনি পরিমিত আদর, ভালোবাসা, শাসন, মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা, সহজভাবে মনোভাব আদান-প্রদান করার পরিবেশ তৈরি, সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান ছেলে-মেয়েদের সুস্থ ও স্বাভাবিক। মানসিক স্বাস্থ্য তৈরিতে সাহায্য করে। মোট কথা গৃহ-পরিবেশে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকলে শিশুদের নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি সুন্দর আচরণ তথা সুস্থ মানসিক বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। অপরদিকে ভগ্ন ও বিপর্যন্ত পরিবারের নিত্য ঝগড়া-কলহ বা অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন অথবা মা-বাবার চরিত্রহীনতা ছেলে-মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে প্রভাবিত ও বিনষ্ট করে এবং তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতাকে উৎসাহিত করে। পারিবারিক অশান্তি ছেলে- মেয়েদের সুন্দর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় অন্তরায়। সুতরাং শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পরিবার ও তার পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব সহজেই অনুমেয়।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প-২ এ কোন চিত্রের প্রভাব অধিক বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প ২-এ চিত্র-ক তে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং চিত্র-খ তে রাজনৈতিক পরিবেশ দৃশ্যমান। তবে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প-২ এ দেখানো চিত্র কৃ'তে প্রদর্শিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। নিচে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো- পারিবারিক ও শিক্ষাঙ্গনের বাইরেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষভাবে প্রভাববিস্তারকারী পরিবেশ হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিশুদের একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে উঠে। এ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বা পরিবেশের সাথে সঠিক মিথস্ক্রিয়ায় শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিযোজন আচরণ লক্ষ করা যায়। এ সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিযোজনমূলক আচরণ রপ্তকারী শিশুই হলো সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের শিশু। শিশু-কিশোরীরা সব সময় সমবয়সীদের পাশাপাশি সমমনাদের নিয়ে দল গঠন করতে ও দলভুক্ত হয়ে থাকতে পছন্দ করে। তারা নিজ দলের সাথে একাত্মতা বজায় রাখার স্বার্থে দলীয় আনুগত্যমূলক আচরণ, গুণাবলি, কার্যাবলি ইত্যাদি অনুকরণ ও অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো শিশু যাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে সেই সময়বয়সী বন্ধু-বান্ধবদের আচার-আচরণ। কারণ, শিশুদের সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে 'সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস এবং অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ উক্তিটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবেই শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের নতুন নতুন মূল্যবোধ তৈরি হয়। ব্যাপক অর্থে, সাংস্কৃতিক পরিবেশ হলো শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য, খেলাধুলা, চিত্র, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি। যা শিশুর আচরণ ও মানসিক বিকাশকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। এ সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বা পরিবেশগত প্রভাব শিশুদের নান্দনিক চেতনাকে বিকশিত করে। অপরদিকে অপসংস্কৃতি তথা অপসাহিত্য ও চলচ্চিত্র শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্যকে বিঘ্নিত ও অনেকাংশ প্রভাবিত করে। উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় চিত্র-ক তে প্রদর্শিত চিত্রের প্রভাবই অধিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
মানসিক স্বাস্থ্য কী?

উত্তর

জ্ঞানের যে শাখায় মনোরোগ মুক্ত সুস্থ জীবনযাপন ও আত্মোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ ও নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলা হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনে WHO-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো WHO বা World Health Organization। যা মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সংস্থা জনগণকে মানসিক রোগ সম্পর্কে শিক্ষাদান করে এবং মানসিক রোগী সম্পর্কে বিভ্রান্তমূলক ধারণাসমূহ দূর করে তাদের প্রতি সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক রোগী শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানসিক রোগের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
দৃশ্যকল্প-১ এ মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পরিবেশের কোন উপাদানের প্রভাব ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পরিবেশের যে উপাদানের প্রভাব ফুটে উঠেছে তা হলো পারিবারিক পরিবেশ। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো- মানসিক স্বাস্থ্য হলো শিশুদের মধ্য হতে অবাঞ্ছিত অসংগতি দূর করা এবং সহজ স্বাচ্ছন্দ্য জীবনের প্রতিশ্রুতি প্রদান। যার প্রথম কাজটি শুরু হয় পরিবার বা গৃহ-পরিবেশ থেকে। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক-শৈশবকাল থেকে বয়োসন্ধিকাল এবং তারুণ্যকাল পর্যন্ত শিশুর যে মানসিক বিকাশ ঘটে, সেখানে মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতি আদর, অতি অবহেলা, অতি শাসন শিশুর স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্যকে যেমন বিঘ্নিত করে, তেমনি পরিমিত আদর, ভালোবাসা, শাসন, মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা, সহজভাবে মনোভাব আদান-প্রদান করার পরিবেশ তৈরি, সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান ছেলে-মেয়েদের সুস্থ ও স্বাভাবিক। মানসিক স্বাস্থ্য তৈরিতে সাহায্য করে। মোট কথা গৃহ-পরিবেশে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকলে শিশুদের নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি সুন্দর আচরণ তথা সুস্থ মানসিক বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। অপরদিকে ভগ্ন ও বিপর্যন্ত পরিবারের নিত্য ঝগড়া-কলহ বা অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন অথবা মা-বাবার চরিত্রহীনতা ছেলে-মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে প্রভাবিত ও বিনষ্ট করে এবং তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতাকে উৎসাহিত করে। পারিবারিক অশান্তি ছেলে- মেয়েদের সুন্দর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় অন্তরায়। সুতরাং শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পরিবার ও তার পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব সহজেই অনুমেয়।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প-২ এ কোন চিত্রের প্রভাব অধিক বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প ২-এ চিত্র-ক তে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং চিত্র-খ তে রাজনৈতিক পরিবেশ দৃশ্যমান। তবে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দৃশ্যকল্প-২ এ দেখানো চিত্র কৃ'তে প্রদর্শিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবই বেশি বলে আমি মনে করি। নিচে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো- পারিবারিক ও শিক্ষাঙ্গনের বাইরেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষভাবে প্রভাববিস্তারকারী পরিবেশ হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিশুদের একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে উঠে। এ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বা পরিবেশের সাথে সঠিক মিথস্ক্রিয়ায় শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিযোজন আচরণ লক্ষ করা যায়। এ সুষ্ঠু সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিযোজনমূলক আচরণ রপ্তকারী শিশুই হলো সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের শিশু। শিশু-কিশোরীরা সব সময় সমবয়সীদের পাশাপাশি সমমনাদের নিয়ে দল গঠন করতে ও দলভুক্ত হয়ে থাকতে পছন্দ করে। তারা নিজ দলের সাথে একাত্মতা বজায় রাখার স্বার্থে দলীয় আনুগত্যমূলক আচরণ, গুণাবলি, কার্যাবলি ইত্যাদি অনুকরণ ও অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো শিশু যাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে সেই সময়বয়সী বন্ধু-বান্ধবদের আচার-আচরণ। কারণ, শিশুদের সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে 'সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস এবং অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ উক্তিটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাবেই শিশুদের মধ্যে বিশেষ ধরনের নতুন নতুন মূল্যবোধ তৈরি হয়। ব্যাপক অর্থে, সাংস্কৃতিক পরিবেশ হলো শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য, খেলাধুলা, চিত্র, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি। যা শিশুর আচরণ ও মানসিক বিকাশকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। এ সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বা পরিবেশগত প্রভাব শিশুদের নান্দনিক চেতনাকে বিকশিত করে। অপরদিকে অপসংস্কৃতি তথা অপসাহিত্য ও চলচ্চিত্র শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্যকে বিঘ্নিত ও অনেকাংশ প্রভাবিত করে। উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় চিত্র-ক তে প্রদর্শিত চিত্রের প্রভাবই অধিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
বয়োসন্ধিতে ছেলেদের বয়সসীমা কত?

উত্তর

বয়োসন্ধিতে ছেলেদের বয়সসীমা ১২ থেকে ১৬ বছর।
বয়োসন্ধি দ্রুত পরিবর্তনশীল কেন?

উত্তর

বয়োসন্ধি জীবন বিকাশের এমন একটি পর্যায় যখন একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি শারীরিক, মানসিক ও আচরণিক পরিবর্তন ঘটে। আর এ পরিবর্তনগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্রুততার সাথে ঘটতে থাকে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন টেস্টোস্টেরন (ছেলেদের ক্ষেত্রে) এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন (মেয়েদের ক্ষেত্রে) এ পরিবর্তনের জন্য দায়ী।
দৃশ্যকল্প-১ এর 'ক' চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এর 'ক' দ্বারা কিশোরের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যসমূহকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এ বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- ১. চুল: বয়োসন্ধিতে অন্ডাশয় এবং লিঙ্গের আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়ার এক বছর পর বিভিন্ন গোপন স্থানে লোম গজায়। লিঙ্গের পাশে লোম গজানোর পরে বগলের নিচে লোম ওঠে। মুখমন্ডলীয় কেশের ব্যাপারে যেটা বলা যায় তা হলো, প্রথমে ঠোঁটের উপরে চুল গজায় ও সেগুলো ক্রমশ দীর্ঘ হয় ও গাঢ় বর্ণ ধারণ করে, পরেবিস্তৃত হয়ে গোঁফে পরিণত হয়। এরপর গালের উপরিভাগে এবং ঠোঁটের নিচে, সবশেষে চিবুকের দুধারে কেশ গজায়। ২. ত্বক: ত্বক পুরু হয়, রং বদলায় এবং ত্বকের উপরের লোমকূপের আকৃতি বড় হয়। এ সময় মুখে ব্রণ দেখা যায়। ৩. পেশি: পেশির আকৃতি ও শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায় বাহু, পা এবং কাঁধ সঠিক আকৃতি পায়। ৪. কণ্ঠস্বর: অনেক ছেলের ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হঠাৎ এবং নাটকীয়ভাবে হয়। অনেকের এ পরিবর্তন পর্যায়ক্রমিকভাবে হয় যা সহজে বোঝা যায় না। কন্ঠের কর্কশতা এ সময় অনেকের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিশেষ করে যাদের কন্ঠ গভীর নিম্নম্বর থেকে হঠাৎ উচ্চৈস্বরে পরিণত হয়। ৫. স্তনের পিট: ১২-১৪ বছরের মধ্যে স্তনে অবস্থিত গ্রন্থির চারপাশ শক্ত হয়ে যায়। এ ধরনের গিট কয়েক সপ্তাহ পরে ছোট হয়ে আসে এবং গিটের সংখ্যাও কমে যায়।
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রেক্ষিতে গ ও ও চিহ্নিত স্থানের প্রভাব বিশ্লেষণ কর এবং কোনটির প্রভাব অধিক মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর প্রেক্ষিতে গ ও ৬ চিহ্নিত স্থানের প্রভাব বলতে যথাক্রমে পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা এবং পিটুইটারি গ্রন্থি ও যৌন গ্রন্থির ভূমিকা বুঝানো হয়েছে। ১. পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে অনেকগুলো হরমোন নিঃসৃত হয় এর মধ্যে দুধরনের রস হলো শরীর বর্ধক হরমোন এবং গোনাডোট্রপিক হরমোন। দেহের উচ্চতা ও আকৃতি শরীরবর্ধক হরমোনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয়। আর যৌন গ্রন্থির কর্মকান্ডের উপর প্রভাব রয়েছে গোনাডোট্রপিক হরমোনের। বয়োসন্ধির ঠিক পূর্বে গোনাডোট্রপিক হরমোনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌন-গ্রন্থির তৎপরতা বেড়ে যায় বলে যৌন পরিবর্তন শুরু হয়। ফলিকল উদ্দীপক হরমোন স্ত্রী ডিম্বাশয়ের ফলিকল গঠন এবং পুরুষ জনন কোষের পূর্ণতা লাভে সহায়তা করে। পিটুইটারি গ্রন্থি যেসব উদ্দীপক হরমোন নিঃসৃত করে যেমন, এড্রিনোকটিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), গোনাডোট্রপিক হরমোন এবং বৃদ্ধির হরমোন সেগুলো অন্যান্য অধিকাংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং নিজেদের বৃদ্ধির সহায়ক হরমোনসমূহে উদ্দীপনার সঞ্চার করে। এসব হরমোনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল, এন্ড্রোজেন এবং যৌন হরমোনসমূহ। যেমন- পুরুষদের টেস্টোস্টেরন এবং মহিলাদের এস্ট্রোজেন উল্লেখযোগ্য। হরমোনসমূহের মিথস্ক্রিয়ার ফলে বয়োসন্ধি এবং শারীরবৃত্তীয় বিকাশ অনুষ্ঠিত হতে থাকে। ২. পিটুইটারি গ্রন্থি ও যৌন গ্রন্থির ভূমিকা: যৌন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনকে পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন গোনাডোট্রপিক হরমোন উদ্দীপিত করে কিন্তু যৌন গ্রন্থির রস আবার পিটুইটারি গ্রন্থিতে বর্ষক হরমোনের উপর প্রভাব বিস্তার করে অর্থাৎ বর্ধক হরমোনের পরিমাণ হ্রাস করে। হরমোনের কর্মকান্ডের এরূপ মিথস্ক্রিয়ার ফলে দৈহিক বৃদ্ধি ধীরে গতিসম্পন্ন হয়। যতদিন মানুষের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বজায় থাকে অর্থাৎ মহিলাদের ঋতুস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ দুটি গ্রন্থির পারস্পরিক প্রভাব একভাবে বজায় থাকে। মহিলারা ঋতুবন্ধের বয়সে প্রবেশ করলে এবং পুরুষদের সভানোৎপাদন ক্ষমতা লুপ্ত হলে এরকম পারস্পরিক প্রভার কমে আসে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বয়োসন্ধির ক্ষেত্রে পিটুইটারি গ্রন্থির প্রভাব অধিষ্ক। পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা ব্যাহত হলো যৌন গ্রন্থির ভূমিকাও বাধাগ্রস্ত হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
বয়োসন্ধিতে ছেলেদের বয়সসীমা কত?

উত্তর

বয়োসন্ধিতে ছেলেদের বয়সসীমা ১২ থেকে ১৬ বছর।
বয়োসন্ধি দ্রুত পরিবর্তনশীল কেন?

উত্তর

বয়োসন্ধি জীবন বিকাশের এমন একটি পর্যায় যখন একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি শারীরিক, মানসিক ও আচরণিক পরিবর্তন ঘটে। আর এ পরিবর্তনগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্রুততার সাথে ঘটতে থাকে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন টেস্টোস্টেরন (ছেলেদের ক্ষেত্রে) এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন (মেয়েদের ক্ষেত্রে) এ পরিবর্তনের জন্য দায়ী।
দৃশ্যকল্প-১ এর 'ক' চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এর 'ক' দ্বারা কিশোরের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যসমূহকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এ বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- ১. চুল: বয়োসন্ধিতে অন্ডাশয় এবং লিঙ্গের আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়ার এক বছর পর বিভিন্ন গোপন স্থানে লোম গজায়। লিঙ্গের পাশে লোম গজানোর পরে বগলের নিচে লোম ওঠে। মুখমন্ডলীয় কেশের ব্যাপারে যেটা বলা যায় তা হলো, প্রথমে ঠোঁটের উপরে চুল গজায় ও সেগুলো ক্রমশ দীর্ঘ হয় ও গাঢ় বর্ণ ধারণ করে, পরেবিস্তৃত হয়ে গোঁফে পরিণত হয়। এরপর গালের উপরিভাগে এবং ঠোঁটের নিচে, সবশেষে চিবুকের দুধারে কেশ গজায়। ২. ত্বক: ত্বক পুরু হয়, রং বদলায় এবং ত্বকের উপরের লোমকূপের আকৃতি বড় হয়। এ সময় মুখে ব্রণ দেখা যায়। ৩. পেশি: পেশির আকৃতি ও শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায় বাহু, পা এবং কাঁধ সঠিক আকৃতি পায়। ৪. কণ্ঠস্বর: অনেক ছেলের ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হঠাৎ এবং নাটকীয়ভাবে হয়। অনেকের এ পরিবর্তন পর্যায়ক্রমিকভাবে হয় যা সহজে বোঝা যায় না। কন্ঠের কর্কশতা এ সময় অনেকের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিশেষ করে যাদের কন্ঠ গভীর নিম্নম্বর থেকে হঠাৎ উচ্চৈস্বরে পরিণত হয়। ৫. স্তনের পিট: ১২-১৪ বছরের মধ্যে স্তনে অবস্থিত গ্রন্থির চারপাশ শক্ত হয়ে যায়। এ ধরনের গিট কয়েক সপ্তাহ পরে ছোট হয়ে আসে এবং গিটের সংখ্যাও কমে যায়।
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রেক্ষিতে গ ও ও চিহ্নিত স্থানের প্রভাব বিশ্লেষণ কর এবং কোনটির প্রভাব অধিক মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর প্রেক্ষিতে গ ও ৬ চিহ্নিত স্থানের প্রভাব বলতে যথাক্রমে পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা এবং পিটুইটারি গ্রন্থি ও যৌন গ্রন্থির ভূমিকা বুঝানো হয়েছে। ১. পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে অনেকগুলো হরমোন নিঃসৃত হয় এর মধ্যে দুধরনের রস হলো শরীর বর্ধক হরমোন এবং গোনাডোট্রপিক হরমোন। দেহের উচ্চতা ও আকৃতি শরীরবর্ধক হরমোনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয়। আর যৌন গ্রন্থির কর্মকান্ডের উপর প্রভাব রয়েছে গোনাডোট্রপিক হরমোনের। বয়োসন্ধির ঠিক পূর্বে গোনাডোট্রপিক হরমোনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌন-গ্রন্থির তৎপরতা বেড়ে যায় বলে যৌন পরিবর্তন শুরু হয়। ফলিকল উদ্দীপক হরমোন স্ত্রী ডিম্বাশয়ের ফলিকল গঠন এবং পুরুষ জনন কোষের পূর্ণতা লাভে সহায়তা করে। পিটুইটারি গ্রন্থি যেসব উদ্দীপক হরমোন নিঃসৃত করে যেমন, এড্রিনোকটিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), গোনাডোট্রপিক হরমোন এবং বৃদ্ধির হরমোন সেগুলো অন্যান্য অধিকাংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং নিজেদের বৃদ্ধির সহায়ক হরমোনসমূহে উদ্দীপনার সঞ্চার করে। এসব হরমোনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল, এন্ড্রোজেন এবং যৌন হরমোনসমূহ। যেমন- পুরুষদের টেস্টোস্টেরন এবং মহিলাদের এস্ট্রোজেন উল্লেখযোগ্য। হরমোনসমূহের মিথস্ক্রিয়ার ফলে বয়োসন্ধি এবং শারীরবৃত্তীয় বিকাশ অনুষ্ঠিত হতে থাকে। ২. পিটুইটারি গ্রন্থি ও যৌন গ্রন্থির ভূমিকা: যৌন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনকে পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন গোনাডোট্রপিক হরমোন উদ্দীপিত করে কিন্তু যৌন গ্রন্থির রস আবার পিটুইটারি গ্রন্থিতে বর্ষক হরমোনের উপর প্রভাব বিস্তার করে অর্থাৎ বর্ধক হরমোনের পরিমাণ হ্রাস করে। হরমোনের কর্মকান্ডের এরূপ মিথস্ক্রিয়ার ফলে দৈহিক বৃদ্ধি ধীরে গতিসম্পন্ন হয়। যতদিন মানুষের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বজায় থাকে অর্থাৎ মহিলাদের ঋতুস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ দুটি গ্রন্থির পারস্পরিক প্রভাব একভাবে বজায় থাকে। মহিলারা ঋতুবন্ধের বয়সে প্রবেশ করলে এবং পুরুষদের সভানোৎপাদন ক্ষমতা লুপ্ত হলে এরকম পারস্পরিক প্রভার কমে আসে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বয়োসন্ধির ক্ষেত্রে পিটুইটারি গ্রন্থির প্রভাব অধিষ্ক। পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা ব্যাহত হলো যৌন গ্রন্থির ভূমিকাও বাধাগ্রস্ত হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রিতা ও মিতা দুই বোন। তাদের এক ভাই। নাম রিফাত। রিতার বয়স ১২ মিতার ১৯ এবং রিফাতের ১৫ বছর। রিতা ষষ্ঠ শ্রেণিতে। পড়ে। প্রায়ই বাসায় মন খারাপ করে একাকী বসে থাকে। সময়মতো খেতে চায় না, তাকে ক্লান্ত ও বিষণ্ণ মনে হয়। মিতা ছোট বোন রিতার সমস্যা বুঝতে পেরে তার সব কথা শুনে এবং পরামর্শ দেয়। তারপর থেকে রিতা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রিফাতের কণ্ঠস্বর হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়। এতে সে বোনদের। সামনে অনেক সময় কথা বলতে লজ্জা পায়।
বয়োসন্ধির সময় কাল কত?

উত্তর

বয়োসন্ধির সময়কাল মেয়েদের ক্ষেত্রে ১১-১৫ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ বছর।
বয়োসন্ধিকাল স্বল্পস্থায়ী কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বয়োসন্ধিকাল স্বল্পস্থায়ী কারণ, এ সময় শরীরের বাইরে এবং ভিতরে যে পরিবর্তন ঘটে তা লক্ষ করলে দেখা যায় যে, পরিবর্তনগুলো মাত্র দু থেকে চার বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংঘটিত হয়। যেসব কিশোর-কিশোরীর এ জাতীয় পরিবর্তনগুলো দু বা কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্কতা দ্রুত হয়েছে এবং যাদের এ পরিবর্তনগুলো চার বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্বতা দেরিতে হয়েছে বলা যায়। যদিও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় আগে পরিপক্কতা অর্জন করলেও এ ব্যতিক্রম দেখা যায়।
উদ্দীপকের আলোকে রিতার যেসব শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রিতার বয়স ১২ বছর। অর্থাৎ রিতার বয়োসন্ধিকাল শুরু হয়েছে। আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থার কারণে সাধারণত ১২-১৫ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের বয়োসন্ধিকাল হয়ে থাকে। উদ্দীপকের আলোকে রিতার যেসব শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. স্তনের বৃদ্ধি ঘটছে। ৩. কোমরের হাড় মোটা, উরু ও নিতম্ব ভারী হচ্ছে। ৪. গুপ্তস্থানে লোম গজাচ্ছে। ৫. ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ৬. এ সময়ে মেয়েদের গলার স্বর পূর্ণতা লাভ করে ও শ্রুতিমধুর হয়।
"রিতা ও রিফাতের পরিবর্তনের কারণ একই হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রিতার বয়স ১২ বছর এবং রিফাতের বয়স ১৫ বছর। উভয়ের ক্ষেত্রে এ বয়স হলো বয়োসন্ধিকাল। রিতা ও রিফাতের পরিবর্তনের কারণ এ বয়োসন্ধিকাল। এ বয়োসন্ধিকালে যেসব পরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় তা নিম্নরূপ- রিতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য: ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পাবে। ২. ত্বক পুরু হবে, রঙ বদলাবে এবং ত্বকের উপর লোমকূপের আকৃতি বড় হবে। ৩. পেশির আকৃতি ও শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায় বাহু, পা এবং কাঁধ সঠিক আকৃতি পাবে। ৪. অন্ডাশয় এবং লিঙ্গের আকৃতি বৃদ্ধি পাবে এবং এক বছরের মধ্যে। বিভিন্ন গোপন স্থানে লোম গজাবে। ৫. গলার স্বর মোটা হবে এবং স্বরভঙ্গ দেখা দিবে। ৬. ১২-১৪ বছরের মধ্যে শুনে অবস্থিত গ্রন্থির চারপাশ শক্ত হয়ে যাবে। রিফাতের পরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য: ১. উচ্চতা ও ওজন বাড়ে। ২. শরীরে দৃঢ়তা আসে, বুক ও কাঁধ চওড়া হয়। ৩. শরীরের বিভিন্ন অংশে লোম গজায়। ৪. ১৬/১৭ বছর বয়সে দাড়ি গোঁঅ ওঠে। ৫. স্বরভঙ্গ হয় ও গলার স্বর মোটা হয়। ৬. প্রজনন অঙ্গ বড় হয়ে ওঠে। ৭. বীর্যপাত হয়। উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, "রিতা ও রিফাতের পরিবর্তনের কারণ একই হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়"- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রিতা ও মিতা দুই বোন। তাদের এক ভাই। নাম রিফাত। রিতার বয়স ১২ মিতার ১৯ এবং রিফাতের ১৫ বছর। রিতা ষষ্ঠ শ্রেণিতে। পড়ে। প্রায়ই বাসায় মন খারাপ করে একাকী বসে থাকে। সময়মতো খেতে চায় না, তাকে ক্লান্ত ও বিষণ্ণ মনে হয়। মিতা ছোট বোন রিতার সমস্যা বুঝতে পেরে তার সব কথা শুনে এবং পরামর্শ দেয়। তারপর থেকে রিতা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রিফাতের কণ্ঠস্বর হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়। এতে সে বোনদের। সামনে অনেক সময় কথা বলতে লজ্জা পায়।
বয়োসন্ধির সময় কাল কত?

উত্তর

বয়োসন্ধির সময়কাল মেয়েদের ক্ষেত্রে ১১-১৫ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ বছর।
বয়োসন্ধিকাল স্বল্পস্থায়ী কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বয়োসন্ধিকাল স্বল্পস্থায়ী কারণ, এ সময় শরীরের বাইরে এবং ভিতরে যে পরিবর্তন ঘটে তা লক্ষ করলে দেখা যায় যে, পরিবর্তনগুলো মাত্র দু থেকে চার বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংঘটিত হয়। যেসব কিশোর-কিশোরীর এ জাতীয় পরিবর্তনগুলো দু বা কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্কতা দ্রুত হয়েছে এবং যাদের এ পরিবর্তনগুলো চার বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্বতা দেরিতে হয়েছে বলা যায়। যদিও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় আগে পরিপক্কতা অর্জন করলেও এ ব্যতিক্রম দেখা যায়।
উদ্দীপকের আলোকে রিতার যেসব শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রিতার বয়স ১২ বছর। অর্থাৎ রিতার বয়োসন্ধিকাল শুরু হয়েছে। আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থার কারণে সাধারণত ১২-১৫ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের বয়োসন্ধিকাল হয়ে থাকে। উদ্দীপকের আলোকে রিতার যেসব শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. স্তনের বৃদ্ধি ঘটছে। ৩. কোমরের হাড় মোটা, উরু ও নিতম্ব ভারী হচ্ছে। ৪. গুপ্তস্থানে লোম গজাচ্ছে। ৫. ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ৬. এ সময়ে মেয়েদের গলার স্বর পূর্ণতা লাভ করে ও শ্রুতিমধুর হয়।
"রিতা ও রিফাতের পরিবর্তনের কারণ একই হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রিতার বয়স ১২ বছর এবং রিফাতের বয়স ১৫ বছর। উভয়ের ক্ষেত্রে এ বয়স হলো বয়োসন্ধিকাল। রিতা ও রিফাতের পরিবর্তনের কারণ এ বয়োসন্ধিকাল। এ বয়োসন্ধিকালে যেসব পরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় তা নিম্নরূপ- রিতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য: ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পাবে। ২. ত্বক পুরু হবে, রঙ বদলাবে এবং ত্বকের উপর লোমকূপের আকৃতি বড় হবে। ৩. পেশির আকৃতি ও শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায় বাহু, পা এবং কাঁধ সঠিক আকৃতি পাবে। ৪. অন্ডাশয় এবং লিঙ্গের আকৃতি বৃদ্ধি পাবে এবং এক বছরের মধ্যে। বিভিন্ন গোপন স্থানে লোম গজাবে। ৫. গলার স্বর মোটা হবে এবং স্বরভঙ্গ দেখা দিবে। ৬. ১২-১৪ বছরের মধ্যে শুনে অবস্থিত গ্রন্থির চারপাশ শক্ত হয়ে যাবে। রিফাতের পরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য: ১. উচ্চতা ও ওজন বাড়ে। ২. শরীরে দৃঢ়তা আসে, বুক ও কাঁধ চওড়া হয়। ৩. শরীরের বিভিন্ন অংশে লোম গজায়। ৪. ১৬/১৭ বছর বয়সে দাড়ি গোঁঅ ওঠে। ৫. স্বরভঙ্গ হয় ও গলার স্বর মোটা হয়। ৬. প্রজনন অঙ্গ বড় হয়ে ওঠে। ৭. বীর্যপাত হয়। উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, "রিতা ও রিফাতের পরিবর্তনের কারণ একই হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়"- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৩/১৪ বছরের ছেলেমেয়েরা সিনেমা বা নাটকে অংশ নিতে চায়। তাদের মনের ভিতর সব সময়েই একটা নায়কোচিত ভাব ফুটে ওঠে। তারা স্কুলের নাটকে অংশ নিতে চায়। কল্পনার নায়ক ও বাস্তবের নায়কের মধ্যে অনেক তফাৎ- এটা তারা বাস্তবের নিরীখে বুঝতে পারে। আবার অনেক সময় তারা রাজনৈতিক নেতা হতে চায়। অনেকেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরে।
বয়োসন্ধিকাল কী?

উত্তর

বয়োসন্ধিকাল হলো যৌন পরিপক্কতার এমন সময়কাল, যেখানে প্রথম একজন সন্তান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করে।
বয়োসন্ধিকালকে সংঙ্কটকাল বলা হয় কেন?

উত্তর

বয়োসন্ধিকালকে সংকটকাল বলা হয়, কারণ- বয়োসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের দেহের দ্রুত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্য আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভুদ মনে হয়। এ সময় দৈহিক বৃদ্ধির ফলে ছেলেমেয়েরা অস্বস্তি অনুভব করে। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে তাদের আচরণ সামাঞ্জস্যপূর্ণ হয় বয়োসন্ধিকালে অভিমান, প্রভাবপ্রবণতা, রাগে ফেটে পড়া, সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদির ফলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাসা বাধে। তাছাড়া মাসিক শুরু হলে মেয়েরা অস্থিরতা ও বিষণ্নতায় ভোগে এবং কারো কথা না শোনার মনোভাব দেখায়।
১৩/১৪ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক প্রভাব কী রকম ৩ হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ১৩/১৪ বৎসর বয়সের ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- সংস্কৃতি বলতে কোনো সমাজের সদস্যদের অভ্যন্ত আচরণের ধারাকে বোঝায়। বিনোদন, চলাফেরা, পোশাক-আশাক, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছু ছেলেমেয়েরা তার সংস্কৃতি প্রথা অনুযায়ী করে থাকে। পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন, মনোভাব, বিশ্বাস, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নৃত্য, খেলাধূলা, চিত্রকলা, আচার-অনুষ্ঠান সবই সাংস্কৃতিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। বয়োসন্ধিকালকে সঙ্কটকাল বলা হয়। এ সময়ে ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মেতে ওঠে। তারা চায় সিনেমা বা নাটকের নায়কের মত হতে। কল্পনার নায়ক এবং বাস্তবের নায়কের মধ্যে অনেক তফাৎ- এটি সে বাস্তবতার নিরীখে বুঝতে পারে। কোন গান শুনে ছেলেমেয়েরা ভাবে সে খুব ভালো গান গাবে। কিন্তু বাস্তবে যেয়ে দেখে তা খুবই কঠিন কাজ। যে সব পরিবারে মা বাবা গান জানে বা অভিনয় করে সে পরিবারের ছেলেমেয়েরা আন্তে আস্তে গান শিখে বা অভিনয় করে। বয়োসন্ধিকালে এসে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মেতে উঠে। মা-বাবা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সহনশীল হলে ছেলেমেয়েরা এ বয়সে সাংস্কৃতিক কর্মে জড়িয়ে পড়ে। অনেকক্ষেত্রে মা-বাবা সাংস্কৃতিক কর্মী না হলে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের সংস্কৃতির চর্চা দেখে তাদের এদিকে শিক্ষা দেন। কাজেই এ বয়সে ছেলেমেয়েরা মা বাবার অনুপ্রেরণায় এবং অনুকূল পরিবেশের সাহায্যে সহজেই সাংস্কৃতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী জীবনে সাংস্কৃতিক কর্মী হয়ে পড়ে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ১৩/১৪ বছর ছেলেমেয়েদের জীবনে সাংস্কৃতিক প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
এ বয়সের ছেলেমেয়েরা কি রাজনৈতিকভাবে সচেতন? উত্তরের স্বপক্ষে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

হ্যাঁ, এ বয়সের ছেলেমেয়েরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে পারে। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো- ১৩/১৪ বছবের ছেলেমেয়েরা বয়োসন্ধিকাল অতিক্রম করে। বয়োসন্ধিকালে ছেলে-মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর রাজনৈতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে যেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বোঝায় যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ যদি সুস্থ ও উন্নত না হয়, ছেলেমেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস যদি উদার না হয়, অন্যের মতের প্রতি যদি সহনশীল না হয় তবে আমরা বলতে পারি সেখানে সঠিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠেনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির মান দুর্বল হয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বয়োসন্ধিতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রবণতা থাকে। এ সময়ে তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, ন্যায়-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। তারা রাজনীতিতে অংশ নেয়। রাজনৈতিক দলের অনুসারী হয়ে তারা বিভিন্ন দল গঠন করে। এরা স্পষ্টভাষী হয় এবং নিজে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে থাকে। কারও সাথে মতের অমিল হলে প্রতিবাদ করে ও অনেক সময় বিদ্রোহী হয়ে উঠে। এ সময়ে ছেলেমেয়েদের আচরণে স্বতঃস্ফূর্ততা, উৎসাহ এবং অন্যের প্রতি সামাজিক মনোভাব প্রকাশ পেয়ে থাকে। পরিবারের রাজনৈতিক পরিবেশ বা মতাদর্শ মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশকে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা তার পিতা-মাতা বা অন্য ব্যক্তিদের আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়। জেনিংস ও নিমি (১৯৭৪) এক গবেষণার ফলাফলে দেখেন যে, উচ্চ বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা সেই রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করে যে দলকে তাদের পিতা-মাতারা পছন্দ কলে। কখনো দেখা যায় ছেলেমেয়েরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়। বয়োসন্ধি ছাত্র আন্দোলনের উত্তম সময়। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মনোভাব অনুযায়ী পৃথক দল গঠন করে। ভালো ছাত্রদের একটি দল, খারাপ ছাত্র-ছাত্রীদের একটি দল আবার নেতিবাচক প্রবণতার অধিকারী ছাত্রদের একটি দল সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে তারা সভা, সমাবেশ করে এবং তাদের আদর্শের কথা প্রচার করে। তবে অসুস্থ ও অস্থির কেন্দ্রীয় রাজনীতির কারণ ছেলেমেয়েদের মধ্যে অপরাধ করার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ১৩/১৪ বছরের ছেলেমেয়েরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং এ সচেতনতা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করে গড়তে সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৩/১৪ বছরের ছেলেমেয়েরা সিনেমা বা নাটকে অংশ নিতে চায়। তাদের মনের ভিতর সব সময়েই একটা নায়কোচিত ভাব ফুটে ওঠে। তারা স্কুলের নাটকে অংশ নিতে চায়। কল্পনার নায়ক ও বাস্তবের নায়কের মধ্যে অনেক তফাৎ- এটা তারা বাস্তবের নিরীখে বুঝতে পারে। আবার অনেক সময় তারা রাজনৈতিক নেতা হতে চায়। অনেকেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরে।
বয়োসন্ধিকাল কী?

উত্তর

বয়োসন্ধিকাল হলো যৌন পরিপক্কতার এমন সময়কাল, যেখানে প্রথম একজন সন্তান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করে।
বয়োসন্ধিকালকে সংঙ্কটকাল বলা হয় কেন?

উত্তর

বয়োসন্ধিকালকে সংকটকাল বলা হয়, কারণ- বয়োসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের দেহের দ্রুত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্য আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভুদ মনে হয়। এ সময় দৈহিক বৃদ্ধির ফলে ছেলেমেয়েরা অস্বস্তি অনুভব করে। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে তাদের আচরণ সামাঞ্জস্যপূর্ণ হয় বয়োসন্ধিকালে অভিমান, প্রভাবপ্রবণতা, রাগে ফেটে পড়া, সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদির ফলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাসা বাধে। তাছাড়া মাসিক শুরু হলে মেয়েরা অস্থিরতা ও বিষণ্নতায় ভোগে এবং কারো কথা না শোনার মনোভাব দেখায়।
১৩/১৪ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক প্রভাব কী রকম ৩ হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ১৩/১৪ বৎসর বয়সের ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- সংস্কৃতি বলতে কোনো সমাজের সদস্যদের অভ্যন্ত আচরণের ধারাকে বোঝায়। বিনোদন, চলাফেরা, পোশাক-আশাক, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছু ছেলেমেয়েরা তার সংস্কৃতি প্রথা অনুযায়ী করে থাকে। পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন, মনোভাব, বিশ্বাস, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নৃত্য, খেলাধূলা, চিত্রকলা, আচার-অনুষ্ঠান সবই সাংস্কৃতিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। বয়োসন্ধিকালকে সঙ্কটকাল বলা হয়। এ সময়ে ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মেতে ওঠে। তারা চায় সিনেমা বা নাটকের নায়কের মত হতে। কল্পনার নায়ক এবং বাস্তবের নায়কের মধ্যে অনেক তফাৎ- এটি সে বাস্তবতার নিরীখে বুঝতে পারে। কোন গান শুনে ছেলেমেয়েরা ভাবে সে খুব ভালো গান গাবে। কিন্তু বাস্তবে যেয়ে দেখে তা খুবই কঠিন কাজ। যে সব পরিবারে মা বাবা গান জানে বা অভিনয় করে সে পরিবারের ছেলেমেয়েরা আন্তে আস্তে গান শিখে বা অভিনয় করে। বয়োসন্ধিকালে এসে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মেতে উঠে। মা-বাবা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সহনশীল হলে ছেলেমেয়েরা এ বয়সে সাংস্কৃতিক কর্মে জড়িয়ে পড়ে। অনেকক্ষেত্রে মা-বাবা সাংস্কৃতিক কর্মী না হলে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের সংস্কৃতির চর্চা দেখে তাদের এদিকে শিক্ষা দেন। কাজেই এ বয়সে ছেলেমেয়েরা মা বাবার অনুপ্রেরণায় এবং অনুকূল পরিবেশের সাহায্যে সহজেই সাংস্কৃতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী জীবনে সাংস্কৃতিক কর্মী হয়ে পড়ে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ১৩/১৪ বছর ছেলেমেয়েদের জীবনে সাংস্কৃতিক প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
এ বয়সের ছেলেমেয়েরা কি রাজনৈতিকভাবে সচেতন? উত্তরের স্বপক্ষে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

হ্যাঁ, এ বয়সের ছেলেমেয়েরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে পারে। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো- ১৩/১৪ বছবের ছেলেমেয়েরা বয়োসন্ধিকাল অতিক্রম করে। বয়োসন্ধিকালে ছেলে-মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর রাজনৈতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে যেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বোঝায় যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ যদি সুস্থ ও উন্নত না হয়, ছেলেমেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস যদি উদার না হয়, অন্যের মতের প্রতি যদি সহনশীল না হয় তবে আমরা বলতে পারি সেখানে সঠিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠেনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির মান দুর্বল হয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বয়োসন্ধিতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রবণতা থাকে। এ সময়ে তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, ন্যায়-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। তারা রাজনীতিতে অংশ নেয়। রাজনৈতিক দলের অনুসারী হয়ে তারা বিভিন্ন দল গঠন করে। এরা স্পষ্টভাষী হয় এবং নিজে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে থাকে। কারও সাথে মতের অমিল হলে প্রতিবাদ করে ও অনেক সময় বিদ্রোহী হয়ে উঠে। এ সময়ে ছেলেমেয়েদের আচরণে স্বতঃস্ফূর্ততা, উৎসাহ এবং অন্যের প্রতি সামাজিক মনোভাব প্রকাশ পেয়ে থাকে। পরিবারের রাজনৈতিক পরিবেশ বা মতাদর্শ মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশকে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা তার পিতা-মাতা বা অন্য ব্যক্তিদের আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়। জেনিংস ও নিমি (১৯৭৪) এক গবেষণার ফলাফলে দেখেন যে, উচ্চ বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা সেই রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করে যে দলকে তাদের পিতা-মাতারা পছন্দ কলে। কখনো দেখা যায় ছেলেমেয়েরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়। বয়োসন্ধি ছাত্র আন্দোলনের উত্তম সময়। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মনোভাব অনুযায়ী পৃথক দল গঠন করে। ভালো ছাত্রদের একটি দল, খারাপ ছাত্র-ছাত্রীদের একটি দল আবার নেতিবাচক প্রবণতার অধিকারী ছাত্রদের একটি দল সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে তারা সভা, সমাবেশ করে এবং তাদের আদর্শের কথা প্রচার করে। তবে অসুস্থ ও অস্থির কেন্দ্রীয় রাজনীতির কারণ ছেলেমেয়েদের মধ্যে অপরাধ করার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ১৩/১৪ বছরের ছেলেমেয়েরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং এ সচেতনতা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করে গড়তে সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

অনেক সময়েই তরুণেরা অবস্থার বিপাকে পড়ে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করি। কখনো কোনো কিছুর প্রতি অত্যন্ত রাগ, আক্রোশ বা ঘৃণা করি। আবার কখনো বা ভয়ে উদ্বেগে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল হলো না, চুরি-ডাকাতি বা প্রতারণার শিকার হলাম, অথবা কোনো আপনজন মারা গেল। এ রকম দুরূহ অবস্থায় মানসিক অশান্তি তো হবেই।
মানসিক স্বাস্থ্য কী?

উত্তর

জ্ঞানের যে শাখায় মনোরোগ মুক্ত সুদ্ধ জীবনযাপন ও আত্মোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ ও নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে।
মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলন কীভাবে গড়ে উঠল?

উত্তর

Cliford Bears মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রবর্তক। তিনি ১৯০৯ সালে 'National Association of Mental HygieneHygiene^{\prime} নামক একটি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। Cliford Bears এর এ প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছিল। মানসিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের মানসিক রোগ সম্পর্কে শিক্ষাদান করা এবং মানসিক রোগী সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক ধারণাসমূহ দূর করে তাদের প্রতি সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।
এ রকম দুরূহ অবস্থায় মানসিক অশান্তিতে পরিবার কি কোনো প্রভাব ফেলতে পারে বলে? ব্যাখ্যা কর?

উত্তর

আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত দুরূহ অবস্থায় মানসিক অশান্তিতে পরিবার ব্যক্তির উপর প্রভাব রাখতে পারে। মূলত একটি। শিশু জন্মের পর পরিবারেই সে বড় হয়। তাই শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিবেশ-এর প্রভাব অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক্-শৈশবকাল থেকে বয়োসন্ধি এবং তারুণ্যকাল পর্যন্ত শিশুর যে মানসিক বিকাশ ঘটে, সেখানে মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষায় ভালো ফল না করা, চুরি-ডাকাতি বা প্রতারণার শিকার হওয়া বা কোনো আপনজন মারা গেলে একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সুস্থ থাকে না। এক্ষেত্রে পরিবার ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সুস্থ করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। পরিমিত আদর, ভালোবাসা, শাসন, মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা, সহজভাবে মনোভাব আদান-প্রদান করার পরিবেশ তৈরি, সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান ব্যক্তির সুস্থ ও স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্য তৈরিতে সাহায্য করে। পরিবারে বিশেষ করে মা-বাবা। শিশুর মানসিক অবস্থা বুঝার ক্ষমতা থাকতে
বাংলাদেশে মানসিক অশান্তির ঝুঁকিসমূহ তোমার নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বাংলাদেশে মানসিক অশান্তির ঝুঁকিসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১ . পরিবার: বাংলাদেশে বেশিরভাগ পরিবার অসচেতনতা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য পূর্বসংস্কার এসবের প্রভাবে ছেলেমেয়েদের সাথে নেতিবাচক আচরণ করে থাকে যার প্রভাব সন্তানদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ হয়ে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ২. সঙ্গদোষ: ছেলেমেয়েরা যাদের সাথে চলাফেরা করে যেমন, খেলার সাথী, বন্ধুদল, এদের আচরণ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা মূল্যবোধ, পছন্দ-অপছন্দ এসব যদি গ্রহণযোগ্য না হয় তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ত্রুটিপূর্ণ হয়। সুতরাং আমাদের দেশে সঙ্গদোষ সুষ্ঠু মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের পথে অন্তরায়। ৩. বেকারত্ব: যুব সমাজই দেশের প্রকৃত শক্তি। কিন্তু বেকারত্বের দরুন এ শক্তি অপচয় ঘটে। বেকার হওয়ার দরুন তাদের কোনো কাজ থাকে না। যা তাদের মধ্যে হতাশা ও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি করে। অনেক সময় তারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। ৪. মাদকাসক্তি: নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সঙ্গদোষ, কালো টাকার প্রভাব, হঠাৎ বড়লোকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অস্থিরতার কারণে ইদানীং সমাজে মাদকাসক্তির হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের কিশোররা মাদকের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ৫. নিরক্ষরতা: বাংলাদেশে এখনও নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত। শিক্ষার অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ বা চাকরি না পেয়ে এক সময় হতাশায় ভোগে ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ৬. দারিদ্র্য: ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশে দারিদ্রদ্র্য বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। দারিদ্র্যের কারণে ব্যক্তি তার মৌলিক চাহিদা পূরণে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। আর এ প্রভাব পড়ে তাদের সন্তানদের উপর। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে দারিদ্র্যের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

অনেক সময়েই তরুণেরা অবস্থার বিপাকে পড়ে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করি। কখনো কোনো কিছুর প্রতি অত্যন্ত রাগ, আক্রোশ বা ঘৃণা করি। আবার কখনো বা ভয়ে উদ্বেগে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল হলো না, চুরি-ডাকাতি বা প্রতারণার শিকার হলাম, অথবা কোনো আপনজন মারা গেল। এ রকম দুরূহ অবস্থায় মানসিক অশান্তি তো হবেই।
মানসিক স্বাস্থ্য কী?

উত্তর

জ্ঞানের যে শাখায় মনোরোগ মুক্ত সুদ্ধ জীবনযাপন ও আত্মোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ ও নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে।
মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলন কীভাবে গড়ে উঠল?

উত্তর

Cliford Bears মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রবর্তক। তিনি ১৯০৯ সালে 'National Association of Mental HygieneHygiene^{\prime} নামক একটি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। Cliford Bears এর এ প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করছিল। মানসিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের মানসিক রোগ সম্পর্কে শিক্ষাদান করা এবং মানসিক রোগী সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক ধারণাসমূহ দূর করে তাদের প্রতি সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।
এ রকম দুরূহ অবস্থায় মানসিক অশান্তিতে পরিবার কি কোনো প্রভাব ফেলতে পারে বলে? ব্যাখ্যা কর?

উত্তর

আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত দুরূহ অবস্থায় মানসিক অশান্তিতে পরিবার ব্যক্তির উপর প্রভাব রাখতে পারে। মূলত একটি। শিশু জন্মের পর পরিবারেই সে বড় হয়। তাই শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিবেশ-এর প্রভাব অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক্-শৈশবকাল থেকে বয়োসন্ধি এবং তারুণ্যকাল পর্যন্ত শিশুর যে মানসিক বিকাশ ঘটে, সেখানে মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষায় ভালো ফল না করা, চুরি-ডাকাতি বা প্রতারণার শিকার হওয়া বা কোনো আপনজন মারা গেলে একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সুস্থ থাকে না। এক্ষেত্রে পরিবার ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সুস্থ করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। পরিমিত আদর, ভালোবাসা, শাসন, মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা, সহজভাবে মনোভাব আদান-প্রদান করার পরিবেশ তৈরি, সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান ব্যক্তির সুস্থ ও স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্য তৈরিতে সাহায্য করে। পরিবারে বিশেষ করে মা-বাবা। শিশুর মানসিক অবস্থা বুঝার ক্ষমতা থাকতে
বাংলাদেশে মানসিক অশান্তির ঝুঁকিসমূহ তোমার নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বাংলাদেশে মানসিক অশান্তির ঝুঁকিসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১ . পরিবার: বাংলাদেশে বেশিরভাগ পরিবার অসচেতনতা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য পূর্বসংস্কার এসবের প্রভাবে ছেলেমেয়েদের সাথে নেতিবাচক আচরণ করে থাকে যার প্রভাব সন্তানদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ হয়ে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ২. সঙ্গদোষ: ছেলেমেয়েরা যাদের সাথে চলাফেরা করে যেমন, খেলার সাথী, বন্ধুদল, এদের আচরণ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা মূল্যবোধ, পছন্দ-অপছন্দ এসব যদি গ্রহণযোগ্য না হয় তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ত্রুটিপূর্ণ হয়। সুতরাং আমাদের দেশে সঙ্গদোষ সুষ্ঠু মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের পথে অন্তরায়। ৩. বেকারত্ব: যুব সমাজই দেশের প্রকৃত শক্তি। কিন্তু বেকারত্বের দরুন এ শক্তি অপচয় ঘটে। বেকার হওয়ার দরুন তাদের কোনো কাজ থাকে না। যা তাদের মধ্যে হতাশা ও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি করে। অনেক সময় তারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। ৪. মাদকাসক্তি: নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সঙ্গদোষ, কালো টাকার প্রভাব, হঠাৎ বড়লোকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অস্থিরতার কারণে ইদানীং সমাজে মাদকাসক্তির হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের কিশোররা মাদকের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ৫. নিরক্ষরতা: বাংলাদেশে এখনও নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত। শিক্ষার অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ বা চাকরি না পেয়ে এক সময় হতাশায় ভোগে ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ৬. দারিদ্র্য: ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশে দারিদ্রদ্র্য বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। দারিদ্র্যের কারণে ব্যক্তি তার মৌলিক চাহিদা পূরণে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। আর এ প্রভাব পড়ে তাদের সন্তানদের উপর। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে দারিদ্র্যের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নীলিমা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। পড়াশুনায় খুবই ভালো। ক্লাসের সবাই নীলিমাকে খুব ভালোবাসে। পড়াশুনার পাশাপাশি সে খেলাধূলা করে। প্রতিবারই সে পুরস্কার পায়। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পরপরই সে যেন কেমন হয়ে যায়। খেলাধুলার প্রতি তার মনোযোগ কম। পড়াশুনাও তার তেমন ভালো লাগে না। মা-বাবা তাকে পড়াশুনা করতে বলে। মাঝে মাঝে সে তাদের প্রতি খুব রেগে যায়। সমাজের লোক নীলিমার প্রতি ভালোভাবে তাকায় না। সেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রাহ্য করে না। এ সময় নীলিমার অসহায় বোধ হয়।
বয়োসন্ধিকালের বয়সসীমা কত?

উত্তর

বয়োসন্ধিকালের বয়সসীমা ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে ১১/১২ বছর বয়সে বয়োসন্ধিকাল শুরু হয় এবং ব্যাপ্তি ১২-১৬ বছর পর্যন্ত হয়।
বয়োসন্ধিকালকে স্বল্পস্থায়ী বলা হয় কেন?

উত্তর

বয়োসন্ধিকাল স্বল্পস্থায়ী কারণ, এ সময় শরীরের বাইরে এবং ভিতরে যে পরিবর্তন ঘটে তা লক্ষ করলে দেখা যায় যে, পরিবর্তনগুলো মাত্র দু থেকে চার বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংঘটিত হয়। যেসব কিশোর-কিশোরীর এ জাতীয় পরিবর্তনগুলো দু বা কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্কতা দ্রুত হয়েছে এবং যাদের এ পরিবর্তনগুলো চার বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্বতা দেরিতে হয়েছে বলা যায়। যদিও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় আগে পরিপক্বতা অর্জন করলেও এ ব্যতিক্রম দেখা যায়। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে ১০/১১ বছর বয়সে বয়োসন্ধিকাল শুরু হয় এবং ব্যাপ্তি ১১-১৫ বছর পর্যন্ত হয়।
এ বয়সে নীলিমার কী কী শারীরিক পরিবর্তন ঘটেছে?

উত্তর

উদ্দীপক অনুযায়ী নীলিমার বয়োসন্ধিকাল চলছে। বয়োসন্ধিকাল অর্থাৎ ১১-১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই বয়োসন্ধিকাল অনুযায়ী নীলিমার নিম্নরূপ শারীরিক পরিবর্তনগুলো ঘটছে- ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. স্তনের বৃদ্ধি ঘটেছে। ৩. কোমরের হাড় মোটা, উরু ও নিতম্ব ভারী হচ্ছে। ৪. গুপ্তস্থানে লোম গজাচ্ছে। ৫. ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে।
এ সময় নীলিমার মনোভাব ও আচরণে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদান কীভাবে কাজ করে বলে তুমি মনে কর।

উত্তর

বয়োসন্ধিকালীন নীলিমার মনোভাব ও আচরণের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো যেভাবে কাজ করে তা নিচে দেওয়া হলো- ১. অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ: বয়োসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের দেহের দ্রুত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্য আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভূত মনে হয়। দৈহিক বৃদ্ধির ফলে ছেলেমেয়েরা অস্বস্তি অনুভব করে। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে তাদের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ২. একঘেয়েমী: এ সময়ে ছেলেমেয়েরা একঘেয়ে হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা ছোটবেলার মতো খেলাধুলা, স্কুলের কাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে আনন্দ পায় না। তাছাড়া এরা যতটুকু কাজ করতে সক্ষম তার সদ্ব্যবহার করতে চায় না। ৩. একাকী থাকার ইচ্ছা: ছেলেমেয়েরা এ সময়ে সবার সাথে মেলামেশা করতে চায় না, একা থাকতে চায়। এ সময় বিভিন্ন কাজকর্ম ও খেলাধুলা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। সকলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং তাদের ভুলভাবে বিচার করছে এ সম্পর্কে তারা প্রায় সময়ই চিন্তা-ভাবনা করে। ৪. আবেগের পার্থক্য: বয়োসন্ধিকালের অভিমান, ভাৰপ্রবণতা, রাগে ফেটে পড়া, সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদির ফলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাসা বাঁধে। এছাড়া মাসিক শুরু হলে মেয়েরা অস্থিরতা ও বিষণ্নতায় ভোগে এবং কারো কথা না শোনার মনোভাব দেখা দেয়। ৫. সামাজিক বৈরিতা: ছেলেমেয়েরা কারো সাথে একমত পোষণ করতে চায় না, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব পোষণ করে এবং একে অন্যের সহযোগিতা করতে চায় না। ছেলেমেয়েরা পরস্পরকে হিংসা করে, একে অন্যের সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে এবং অবমাননাসূচক মন্তব্য করে। বয়োসন্ধিকালের শেষেরদিকে এসে এসব ভাব কমে আসে এবং সহনশীল হয়ে ওঠে। ৬. অতিরিক্ত লজ্জা: এ সময়ে পরিস্ফুট যৌন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেয়ে অন্য ব্যক্তি বিরূপ মন্তব্য করতে পারে ভেবে এরা লাজুক হয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত যৌন পরিবর্তনের কারণেই এরা অনেকটা ভীত হয়ে পড়ে। ৭. আত্মপ্রত্যয়ের অভাব: সহনশীলতার অভাব এবং বয়স্ক ব্যক্তি ও সঙ্গীদের কাছ থেকে সবসময় কাজের সমালোচনা শোনার ফলে এদের মধ্যে আত্মত্মপ্রত্যয়ের অভাব দেখা দেয়। ফলে এ বয়সে অনেকের মধ্যে হীনম্মন্যতা দেখা যায়। বয়োপ্রাপ্তির মাধ্যমে যে শারীরিক পরিবর্তন হয় তা নীলিমার মনোভাব ও আচরণের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তার যৌন পরিপক্কতা অর্জনের পূর্বে এবং যৌন পরিপক্বতা অর্জন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নীলিমা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। পড়াশুনায় খুবই ভালো। ক্লাসের সবাই নীলিমাকে খুব ভালোবাসে। পড়াশুনার পাশাপাশি সে খেলাধূলা করে। প্রতিবারই সে পুরস্কার পায়। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পরপরই সে যেন কেমন হয়ে যায়। খেলাধুলার প্রতি তার মনোযোগ কম। পড়াশুনাও তার তেমন ভালো লাগে না। মা-বাবা তাকে পড়াশুনা করতে বলে। মাঝে মাঝে সে তাদের প্রতি খুব রেগে যায়। সমাজের লোক নীলিমার প্রতি ভালোভাবে তাকায় না। সেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রাহ্য করে না। এ সময় নীলিমার অসহায় বোধ হয়।
বয়োসন্ধিকালের বয়সসীমা কত?

উত্তর

বয়োসন্ধিকালের বয়সসীমা ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে ১১/১২ বছর বয়সে বয়োসন্ধিকাল শুরু হয় এবং ব্যাপ্তি ১২-১৬ বছর পর্যন্ত হয়।
বয়োসন্ধিকালকে স্বল্পস্থায়ী বলা হয় কেন?

উত্তর

বয়োসন্ধিকাল স্বল্পস্থায়ী কারণ, এ সময় শরীরের বাইরে এবং ভিতরে যে পরিবর্তন ঘটে তা লক্ষ করলে দেখা যায় যে, পরিবর্তনগুলো মাত্র দু থেকে চার বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংঘটিত হয়। যেসব কিশোর-কিশোরীর এ জাতীয় পরিবর্তনগুলো দু বা কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্কতা দ্রুত হয়েছে এবং যাদের এ পরিবর্তনগুলো চার বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন সম্পন্ন হয় তাদের পরিপক্বতা দেরিতে হয়েছে বলা যায়। যদিও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় আগে পরিপক্বতা অর্জন করলেও এ ব্যতিক্রম দেখা যায়। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে ১০/১১ বছর বয়সে বয়োসন্ধিকাল শুরু হয় এবং ব্যাপ্তি ১১-১৫ বছর পর্যন্ত হয়।
এ বয়সে নীলিমার কী কী শারীরিক পরিবর্তন ঘটেছে?

উত্তর

উদ্দীপক অনুযায়ী নীলিমার বয়োসন্ধিকাল চলছে। বয়োসন্ধিকাল অর্থাৎ ১১-১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই বয়োসন্ধিকাল অনুযায়ী নীলিমার নিম্নরূপ শারীরিক পরিবর্তনগুলো ঘটছে- ১. উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. স্তনের বৃদ্ধি ঘটেছে। ৩. কোমরের হাড় মোটা, উরু ও নিতম্ব ভারী হচ্ছে। ৪. গুপ্তস্থানে লোম গজাচ্ছে। ৫. ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে।
এ সময় নীলিমার মনোভাব ও আচরণে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদান কীভাবে কাজ করে বলে তুমি মনে কর।

উত্তর

বয়োসন্ধিকালীন নীলিমার মনোভাব ও আচরণের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো যেভাবে কাজ করে তা নিচে দেওয়া হলো- ১. অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ: বয়োসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের দেহের দ্রুত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্য আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভূত মনে হয়। দৈহিক বৃদ্ধির ফলে ছেলেমেয়েরা অস্বস্তি অনুভব করে। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে তাদের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ২. একঘেয়েমী: এ সময়ে ছেলেমেয়েরা একঘেয়ে হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা ছোটবেলার মতো খেলাধুলা, স্কুলের কাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে আনন্দ পায় না। তাছাড়া এরা যতটুকু কাজ করতে সক্ষম তার সদ্ব্যবহার করতে চায় না। ৩. একাকী থাকার ইচ্ছা: ছেলেমেয়েরা এ সময়ে সবার সাথে মেলামেশা করতে চায় না, একা থাকতে চায়। এ সময় বিভিন্ন কাজকর্ম ও খেলাধুলা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। সকলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং তাদের ভুলভাবে বিচার করছে এ সম্পর্কে তারা প্রায় সময়ই চিন্তা-ভাবনা করে। ৪. আবেগের পার্থক্য: বয়োসন্ধিকালের অভিমান, ভাৰপ্রবণতা, রাগে ফেটে পড়া, সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদির ফলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাসা বাঁধে। এছাড়া মাসিক শুরু হলে মেয়েরা অস্থিরতা ও বিষণ্নতায় ভোগে এবং কারো কথা না শোনার মনোভাব দেখা দেয়। ৫. সামাজিক বৈরিতা: ছেলেমেয়েরা কারো সাথে একমত পোষণ করতে চায় না, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব পোষণ করে এবং একে অন্যের সহযোগিতা করতে চায় না। ছেলেমেয়েরা পরস্পরকে হিংসা করে, একে অন্যের সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে এবং অবমাননাসূচক মন্তব্য করে। বয়োসন্ধিকালের শেষেরদিকে এসে এসব ভাব কমে আসে এবং সহনশীল হয়ে ওঠে। ৬. অতিরিক্ত লজ্জা: এ সময়ে পরিস্ফুট যৌন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেয়ে অন্য ব্যক্তি বিরূপ মন্তব্য করতে পারে ভেবে এরা লাজুক হয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত যৌন পরিবর্তনের কারণেই এরা অনেকটা ভীত হয়ে পড়ে। ৭. আত্মপ্রত্যয়ের অভাব: সহনশীলতার অভাব এবং বয়স্ক ব্যক্তি ও সঙ্গীদের কাছ থেকে সবসময় কাজের সমালোচনা শোনার ফলে এদের মধ্যে আত্মত্মপ্রত্যয়ের অভাব দেখা দেয়। ফলে এ বয়সে অনেকের মধ্যে হীনম্মন্যতা দেখা যায়। বয়োপ্রাপ্তির মাধ্যমে যে শারীরিক পরিবর্তন হয় তা নীলিমার মনোভাব ও আচরণের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তার যৌন পরিপক্কতা অর্জনের পূর্বে এবং যৌন পরিপক্বতা অর্জন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো